ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মা-মেয়েকে ন্যাড়া : অবশেষে কাউন্সিলর রুমকি বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৮

বগুড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় ধর্ষক তুফানের স্ত্রীর বড় বোন কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকিকে অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ ঘটনায় রুমকিকে অভিযুক্ত করে দুটি মামলায় আদালতে চার্জশিট (তদন্ত প্রতিবেদন) দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আবদুর রউফ মিয়া স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ৩১ এর উপধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেন।

বগুড়া পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমান রুমকিকে বরখাস্তের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সচিব আব্দুর রউফ স্বাক্ষরিত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত ৮ মার্চ কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকিকে সাময়িক বরখাস্ত করে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিটি গত ১৮ মার্চ হাতে পেয়েছি।

তিনি আরও জানান, কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকি গ্রেফতার হওয়ার পরপরই অন্য এলাকার কাউন্সিলরকে তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এদিকে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, বহুল আলোচিত বগুড়ায় কিশোরী ধর্ষণ ও তার মাকে শারীরিক নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত দুটি মামলায় প্রধান হোতা শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে তুফান সরকারকে প্রধান অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বগুড়া অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ধর্ষণ মামলায় তুফান সরকারসহ ১০ জন এবং নির্যাতন মামলায় তুফানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে পলাতক আসামি শিমুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বুধবার দুপুরে বগুড়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক সুফিয়া নাজিম জানান, মামলার চার্জশিট গৃহীত হওয়ার পরপরই মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি মন্ত্রণালয়ের কোনও চিঠি হাতে পাননি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, আতিক, দিপু ও নাপিত জীবন আদালতে মা ও মেয়েকে ন্যাড়া এবং নির্যাতনের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তুফান সরকার, আশা, রুমকি ও রুমাসহ অন্যদের কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়েও স্বীকারোক্তি আদায় করতে পারেননি। মামলায় ১৬ জন সাক্ষী রাখা হয়েছে। আলামত হিসেবে জব্দ করা হয় তুফানের প্রাইভেটকার, দুটি ক্ষুর, দুটি কাঁচি, ভিকটিমদের স্বাক্ষর নেয়া কাউন্সিলর রুমকির পৌরসভার প্যাডের পাতা, নির্যাতনের এসএস পাইপ, মা ও মেয়ের কেটে ফেলা চুল।

ভিকটিম ছাত্রীও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তাকে নাবালিকা উল্লেখ করা হয়েছে।

বগুড়া কোর্ট পরিদর্শক শাহজাহান আলী জানান, বগুড়ায় কিশোরী ধর্ষণ ও তার মাকে শারীরিক নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত দুটি মামলায় প্রধান হোতা শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারসহ ১০ এবং ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করেছে তদন্ত কর্মকর্তা।

এএম/জেআইএম

আরও পড়ুন