৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে স্যালাইন, যমজ সন্তানের মৃত্যু
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে জন্মের ১৫ মিনিট পর যমজ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে ব্যথার ওষুধ না দিয়ে স্যালাইন পুশ করায় নির্দিষ্ট সময়ের আগে তার ডেলিভারি হয়। ডেলিভারির ১৫ মিনিট পর যমজ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পরে বেলা দেড়টার দিকে খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা হাসপাতালে যান। যমজ নবজাতকের মা বিউটি আক্তার (১৯) নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়নের চাকধ গ্রামের ফজলুল হক চৌকিদারের মেয়ে।
বিউটি আক্তার জাগো নিউজকে জানান, পেটের ব্যথা নিয়ে সোমবার রাত ২টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সিট না পেয়ে হাসপাতালের দোতলায় মেডিসিন ওয়ার্ড মহিলা কক্ষের ফ্লোরে চাদর বিছিয়ে শুয়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন। ওই সময় নার্সের কাছে ব্যথার ওষুধ চান তিনি।
তখন নার্স এসে বিভিন্ন ভাষায় গালাগালি করেন। নার্স বলেন, কি হয়েছে আপনি চিল্লাচ্ছেন কেন? তখন বিউটি বলেন, আমার পেটে ৫ মাসের যমজ শিশু। নার্স ডেলিভারি করাতে হবে বলে স্যালাইন পুশ করেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে একটি শিশুর জন্ম হয়। পরে পেটে চাপা দিয়ে দ্বিতীয় শিশুকে ভূমিষ্ঠ করান নার্স। শিশু দুটি জন্ম নেয়ার ১৫ মিনিট পর মারা যায়।
বিউটি আক্তারের অভিযোগ, ব্যথা কমার জন্য খাবারের ওষুধ না দিয়ে ডেলিভারির জন্যই স্যালাইন পুশ করেছেন নার্স। স্যালাইন পুশ করার পরেই যমজ শিশুর জন্ম হয়। পরে তাদের মৃত্যু হয়। ওই নার্সের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করার কথাও বলেন বিউটি।
অভিযুক্ত সদর হাসপাতালের নার্স নাসিমা আক্তার বলেন, বিউটির পেটের ব্যথার কথা শুনে রোগীর কাছে যাই। যেয়ে জানতে পারলাম বিউটির পেটে দুটি যমজ সন্তান। তখন তাকে বলেছি, নরমাল বাচ্চা হতে পারে। তখন বিউটি আমাকে বলেন আমার পেটে ৫ মাসের দুটি বাচ্চা। আল্ট্রাসনোগ্রাম ছাড়া আমি ডেলিভারি করাবো না। পরে ব্যথা কমানোর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী স্যালাইন পুশ করলে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নরমাল ডেলিভারিতে দুই সন্তানের জন্ম হয়। ১৫ মিনটি পরে শিশু দুটি মারা যায়। তবে এতে আমাদের কোনো অবহেলা ছিল না।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শেখ মোহাম্মদ মোস্তফা খোকন বলেন, মঙ্গলবার রাতে ওই নারী আমাদের হাসপাতালে আসেন। তার পেটে দুটি বাচ্চা ছিল। হাসপাতালের ডাক্তার ওনাকে চিকিৎসা দিয়েছেন। সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয়েছে তাকে।
তিনি বলেন, অনেক সময় পেটে থাকা দুই, তিন, চার ও পাঁচ মাসের বাচ্চার নরমাল ডেলিভারি হয়। সেভাবেই এই বাচ্চাদের ডেলিভারি হয়েছে। তবুও রোগীর পরিবার অভিযোগ করেছে প্রচণ্ড ব্যথা থাকার পরও নার্স কাছে যাননি। আমি ব্যাপারটা যেহেতু জেনেছি সেহেতু নার্সরা কোনো রকমের দোষ করে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মো. ছগির হোসেন/এএম/এমএস