নানা সমস্যার বৃত্তে আবদ্ধ পাঁচবিবি রেলস্টেশন
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশনটি বৃটিশ শাসন আমলের ঐতিহ্যবাহী স্টেশন হিসেবে পরিচিত। এ স্টেশন থেকে প্রতিদিন শত শত যাত্রী ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করেন। কিন্ত বর্তমানে স্টেশনটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। দীর্ঘদিনের নির্মাণকৃত টিনশেডের ছাউনিতে বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ফুঁটো হওয়ায় বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃৃষ্টি হলেই প্লাটফর্ম পানিতে থৈ থৈ করে। তখন দাঁড়াবার জায়গাটুকুও পান না যাত্রীরা।
অথচ প্রতিবছর এই স্টেশন থেকে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আদায় করলেও দৃষ্টি নেই টিনশেডটি মেরামতের। স্টেশন ঘুরে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রেল ও যোগাযোগমন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল আলীম জনবহুল পাঁচবিবি রেলস্টেশনের যাত্রীদের সুবিধার্থে নির্মাণ করেন টিনশেডটি। শেডটি নির্মাণের পর শেডের নীচে চায়ের দোকানের ধোঁয়ার কারণে কয়েক বছরের মধ্যে টিনে মরিচা ধরে টিনগুলো নষ্ট হয়ে যায়। অনেকদিন ধরে সংস্কার কার্যক্রম না হওয়ায় ধীরে ধীরে মরিচা ধরা অংশগুলো ভেঙে পড়ে বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ফুঁটোর সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে রেলস্টেশনের প্লাটফর্মে দাঁড়ালে বড় ফুঁটো দেখা যায়, যা দিয়ে গোটা আকাশ চোখে পড়ে। এছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই সাধারণ যাত্রীদের দাঁড়াবার জায়গাটুকুও থাকে না। তখন যাত্রীরা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দোকানের নিচে গিয়ে আশ্রয় নেন। এছাড়া রেল স্টেশনের প্লাটফর্ম ও জায়গা-জমি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দখল হয়ে গেছে। এসব জায়গা দখল করে স্থানীয় ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীরা নির্মাণ করেছে মার্কেট এবং যত্রতত্র বিভিন্ন দোকান বসায় যাত্রীদের চলাফেরায় মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। 
পাঁচবিবিতে সপ্তাহে দুদিন সর্ববৃহৎ হাট বসায় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জেলা থেকে এসে পণ্য ক্রয় করে ট্রেনযোগেই যে যার গন্তব্যে ফিরে যান। এ স্টেশন থেকে ঢাকাগামী ট্রেন একতা ও দ্রুতযান যাতায়াত করলেও যাত্রীদের বসার জন্য বিশ্রামাগার ও বাথরুমের কোনো ব্যবস্থা নেই।
ষ্টেশনে অপেক্ষামান ঢাকার ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন ও জুয়েল মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ব্যবসায়ের কারণে আমাদের প্রায়ই পাঁচবিবি থেকে পণ্য ক্রয় করে নিয়ে যেতে হয়। কিন্ত বর্ষা মৌসুমে আমাদের খুব বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। টিনশেডটি ফুঁটো হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই ক্রয়কৃত পণ্য পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।
ঢাকার জয়দেবপুরগামী সায়লা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, যাত্রীদের বসার জন্য বিশ্রামাগার ও বাথরুমের ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের খুবই সমস্যায় পড়তে হয়।
এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার বাবু সন্তোষ কুমার জাগো নিউজকে জানান, বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং অনুমোদনও হয়েছে অল্প দিনেই কাজ শুরু হবে। আর বেদখল হওয়া রেলের জায়গা-জমির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
এমজেড/এমএস
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ কুমিল্লায় প্রতীক বরাদ্দের দিনই শোডাউন, প্রার্থীকে জরিমানা
- ২ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন মারা গেছেন
- ৩ শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে নোয়াখালীতে শিবিরের বিক্ষোভ
- ৪ ময়মনসিংহ বিএনপি-বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ-গুলি
- ৫ তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করায় দিনাজপুরে যুবক গ্রেফতার