৫ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ট্যাক্স পায় যশোর পৌরসভা
যশোরের পাঁচ সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার ট্যাক্স পাওনা যশোর পৌরসভার। এছাড়া সাড়ে পাঁচশ ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরও প্রায় ৬৭ লাখ টাকার মত পাওনা। সবমিলিয়ে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌরসভার গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) পাওনা রয়েছে ২ কোটি ১১ লাখ ৫২ হাজার ৫৫২ টাকা। বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছেন না। যশোর পৌরসভার উন্নয়নের স্বার্থে মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার সবাইকে বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছেন।
যশোর পৌরসভা সূত্র জানায়, গৃহকর বাবদ যশোরের পাঁচ সরকারি প্রতিষ্ঠান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ৬২ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৬ টাকা, শিল্পকলা একাডেমির ২৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার ২৫ লাখ ১ হাজার ৫৪৮ টাকা, জেলা পরিষদের ৮ লাখ ২৯৫ টাকা ও জেলা জজ আদালতের ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া সাড়ে পাঁচশ ব্যক্তি মালিকানধীন হোল্ডিংয়ের ৬৭ লাখ টাকা গৃহকর বকেয়া রয়েছে। যশোর পৌর এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে চলমান রয়েছে দেড়শ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ইউজিপ-৩। দাতা সংস্থার শর্তানুযায়ী মোট গৃহকরের শতকরা ৮০ ভাগ আদায় করতে হবে।
যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুন্ডু জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বকেয়া গৃহকরের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি যশোর সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি)। এ প্রতিষ্ঠানটিকে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্বেও বকেয়া পরিশোধ করছে না। এছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও বকেয়া পরিশোধে আন্তরিক না।
এ বিষয়ে টিটিসির অধ্যক্ষ রাশেদুল ইসলাম বলেন, পৌরসভা বারবার তাগাদা দিচ্ছে। আর আমি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছি। কিন্তু অর্থ না পাওয়ায় পরিশোধ করতে পারছি না। দ্রুত যাতে সমাধান হয় সেজন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ৫টির মধ্যে বকেয়ায় দ্বিতীয় থাকা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার হায়দার আলী বলেন, অর্থ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। মিটিংয়েও বলেছি। বরাদ্দ না পাওয়ায় বকেয়া পরিশোধ সম্ভব হচ্ছে না।
যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানান, ব্যক্তি মালিকানধীন হোল্ডিয়ের বকেয়া গৃহকর আদায়ে বর্তমানে অভিযান চলছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি টিম গৃহকর আদায়ে অভিযান চালাচ্ছে। যশোর পৌরসভার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি গৃহকর পরিশোধে সবাইকে আন্তরিক হতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
মিলন রহমান/আরএ/আরআইপি