কোথায় যাবে পরিবারটি?
যশোরের শার্শা উপজেলার ডিহি ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন আলীর নির্দেশে ও পুলিশের উপস্থিতিতে বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী এক পরিবার। বুধবার বিকেলে শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের টেংরালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় চেয়ারম্যান হোসেন আলী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ওয়াদুদ মিয়ার বাড়িটি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়।
অভিযোগকারী ওয়াদুদ মিয়া জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবত ২নং টেংরালী মৌজার সাবেক দাগ ৭৭৬ নং দাগে ১৫ শতক বাস্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। তার বাবার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে পেয়ে এ পর্যন্ত বসবাস করে আসছেন তিনি। হঠাৎ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন আলীর নির্দেশে ভূমিদস্যু ও এলাকার চিহ্নিত লাঠিয়াল বাহিনী খালেক, রাজ্জাক, ছামাদ, বাবলু, আজু, ইসমাইল, জাকির, ইমরান, ইজাজুল, পিয়াল, মজিদসহ আরো অনেকে স্থানীয় গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শেখ লুৎফর রহমানের উপস্থিতিতে তার সেমিপাকা বাড়িটি ভেঙে গুড়িয়ে দেয় ও দরজা-জানালাগুলো নিয়ে যায়। ঘটনাটি গ্রামবাসীর সামনে ঘটলেও পুলিশ উপস্থিত থাকার কারণে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি তারা। ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করতে গেলেও এসআই শেখ লুৎফর রহমান তাদের গালিগালাজ করেন এবং আটকের হুমকি দেন।
তিনি বলেন, বাড়িঘর হারিয়ে একেবারে রাস্তায় এসে গেছি। এ বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ডিহি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন আলী বলেন, সরকারি সম্পত্তিতে বাড়ি নির্মাণ করায় প্রতিবেশীরা যাতায়াতের রাস্তা করার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তার নির্দেশে হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। শার্শা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের নির্দেশক্রমে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও তার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সরকারি সম্পত্তি থেকে অবৈধ বসতি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে।
গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শেখ লুৎফর রহমান বলেন, আমাকে শার্শা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফোন করে বলেন টেংরালী গ্রামে একটি উচ্ছেদ অভিযান আছে, সঙ্গে থাকার নির্দেশ দেন। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়ে যথাসময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে সেখানে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) তিন প্রতিনিধি সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম, পিয়ন অসীম কুমার, তপন কুমার এবং স্থানীয় গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতে অবৈধ বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে।
তবে এ ব্যাপারে শার্শা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বাড়িঘর ভাঙচুর করার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এলাকায় যাতে আইন শৃংখলার অবনতি না হয় সেজন্য গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়িকে নির্দেশ দিয়েছি।
জামাল হোসেন/এফএ/আরআইপি