ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন ও জোয়ারাধার প্রকল্প চালুর দাবি

জেলা প্রতিনিধি | যশোর | প্রকাশিত: ০৭:১৫ পিএম, ০৩ মে ২০১৮

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই বিল কপালিয়ায় জোয়ারাধার প্রকল্প (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট-টিআরএম) বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে যশোরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তৎকালীন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে এক মতবিনিময় সভায় ভবদহ সমস্যার টেক্সই ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পুনরায় বিল কপালিয়াসহ ভবদহ অঞ্চলে টিআরএম প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

কিন্তু অদ্যাবধি টিআরএম বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ২০১৭ সালের মাঘী পূর্ণিমা অতিক্রান্ত; আরেক মাঘ সমাগত। কোনো এক গভীর ষড়যন্ত্রের কারণে গৃহীত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না করে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিনা টেন্ডারে পরপর থোক-বরাদ্দ দিয়ে নদী খনন বা পাইলট চ্যানেলের কাজ করা হচ্ছে। যা কোনো স্থায়ী বা টেক্সই সমাধান নয়। থোক বরাদ্দে কাজ পাচ্ছেন যারা তারাই নিজেদের ব্যবসায়িক লাভের হিসাব কষে গোপন হস্তক্ষেপে অফিসের সঙ্গে যোগসাজশে টিআরএম প্রকল্পে বিঘ্ন ঘটিয়ে বিলম্বিত করার অপকৌশল অব্যাহত রেখেছেন। এতে সরকারের নদী বাঁচানো নীতিমালা লঙ্ঘন হচ্ছে। থোক বরাদ্দের এই কাজে নিছক সরকারি অর্থ অপচয়। আবার সে কাজেও রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ঠিকাদার কাজ না করেও বিল উত্তোলন করেছেন। তদন্ত করলে এ অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ মিলবে। থোক বরাদ্দের কাজে কিছুটা লাভ হলেও চূড়ান্তভাবে নদী ভরাট হয়ে যাবে। এ পরিস্থিতি টিআরএম করার বাস্তবতাকেই অনিশ্চিত করে তুলছে; শুধু তাইই নয়, এলাকা স্থায়ী বিপর্যয়ের মধ্যে চলে যাবে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১২ সালে একটি সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবদহের বিল কপালিয়ার টিআরএম সরকার বন্ধ করে দেয়। এতে প্রকল্প এলাকার অভয়নগর উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ৭০টি গ্রাম, মণিরামপুরের ১৬টি ইউনিয়নের ১০০টি গ্রাম, কেশবপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১৪০টি গ্রাম এবং যশোর সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৬৯টি গ্রাম মারাত্মক জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে।

সরকারি হিসাবে জলাবদ্ধতায় কমপক্ষে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭ শত ২৯টি বসতবাড়ি মাসের পর মাস পানিতে ডুবে থাকে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন ৮ লাখ ৮৯হাজার ৮ শত ১৮ জন মানুষ।

২০১৬ সালে আগস্ট মাসে দুই দফা ভারী বর্ষণেই ভবদহের বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। তখন জলাবদ্ধ হয়ে পড়েন মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলার ৩ লাখ মানুষ।

এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালেও ব্যাপক জলাবদ্ধতায় দেখা দেয়। তাই এ জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে এবার মাঘী পূর্ণিমার আগেই ভবদহ অঞ্চলের প্রস্তাবিত টিআরএম প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি করেছেন নেতৃবৃন্দ। একইসঙ্গে কেশবপুর উপজেলার স্থায়ী জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষায় হরিহর নদের পলি অপসারণের কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি করা হয়েছে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালী, সমন্বয়ক অধ্যাপক বৈকুণ্ঠ বিহারী রায়, গাজী আব্দুল হামিদ, অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিকী, অধ্যাপক চৈতন্য পাল, সনজিত বিশ্বাস, মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব আব্দুল মাজেদ, ভৈরব সংস্কার আন্দোলনের নেতা জাকির হোসেন হবি, জিল্লুর রহমান ভিটু, মিজানুর রহমান ও কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাস প্রমুখ।

মিলন রহমান/এএম/পিআর

আরও পড়ুন