শিশুটির গোপনাঙ্গে ছ্যাঁকা দিলো সৎ মা
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় শিশু ফাতেমা আক্তারকে (৫) হাত-পা ও মুখ বেঁধে খুন্তি গরম করে গোপনাঙ্গ ও দুই উরুতে ছ্যাঁকা দিয়েছে সৎ মা। এ ঘটনায় সৎ মা মুন্নী বেগমকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার রাজধানী ঢাকার উত্তর বাড্ডার মুন্নীর এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে শনিবার রাতে নির্যাতনের শিকার শিশু ফাতেমার দাদা মো. মহিউদ্দিন মিয়া তার পুত্রবধূ মুন্নী বেগমকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। গ্রেফতার মুন্নী বেগম বন্দর উপজেলার ঘাড়মোড়া এলাকার দিনমজুর রোমান মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী।
শিশু ফাতেমার দাদা মো. মহিউদ্দিন মিয়া মামলায় উল্লেখ করেন, তার ছেলে রোমানের প্রথম স্ত্রী শেফালী জীবিকার তাগিদে সৌদিআরব চলে যায়। তার ঘরে রাজ (৬) নামে এক ছেলে এবং ফাতেমা আক্তার (৫) নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। শেফালী সৌদিআরব যাওয়ার পর রোমান মুন্নী বেগমকে বিয়ে করে। মুন্নীর ঘরেও দুই সন্তান রয়েছে।
কিন্তু মুন্নী তার সতীনের সন্তানদের কারণে-অকারণে মারধর ও বকাঝকা করতো। গত ১ মে মুন্নী শিশু ফাতেমার হাত-পা ও মুখ বেঁধে খুন্তি গরম করে গোপনাঙ্গ ও দুই উরুতে ছ্যাঁকা দেয়। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়।
ফাতেমার বাবা রোমান মিয়া বাড়ি ফিরে এ ঘটনা জানতে পেরে ফাতেমাকে গোপনে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি নিয়ে আসে। বিষয়টি এতদিন গোপন থাকলেও গত শনিবার তা প্রকাশ হয়।
তখন এলাকাবাসী মুন্নীর বিচার দাবিতে তাকে বাড়িতে আটকে রাখে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত করে বিচারের দায়িত্ব পঞ্চায়েত কমিটির কাছে দিয়ে যাওয়ার পর মুন্নী বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
বন্দর থানা পুলিশের ওসি শাহীন মণ্ডল মুন্নী বেগমকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় মুন্নী বেগম একমাত্র আসামি। ঘটনাটি সে ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। তাই তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়।
শাহাদাত/এএম/আরআইপি