ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গাজীপুরে দুই মেয়র প্রার্থীর ঘরোয়া সভা

জেলা প্রতিনিধি | গাজীপুর | প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ১৪ মে ২০১৮

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ঘরোয়া প্রচারণায় সোমবার ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

এ সময় তারা নিজ নিজ বাসভবনে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন। তারা সাংগঠনিক ও নির্বাচনের নানা কৌশল নিয়ে নেতাকর্মীদের দিক নির্দেশনা দেন।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম সকালে কাশিমপুর ও গাছা এলাকার চারটি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের জানান, আগামী ১৮ জুন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে নৌকার পক্ষে প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইতে হবে। এ জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। কীভাবে নৌকার পক্ষে ভোট বৃদ্ধি করা যায় তার চেষ্টা করতে হবে। পরে তিনি গাজীপুরের ৩২টি গার্মেন্ট শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আগামী নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর রহমান, জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, প্রস্তাবিত গাছা থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ কাদের, শাজাহান খন্দকার, জুয়েল মোল্লা ও সিরাজ মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে গাজীপুর মহানগরের ৫৩নং ওয়ার্ডে আলমাছ ভেন্ডারের বড় দেওড়ার বাসায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মিলিত হন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল ও মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। এতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুর মোহাম্মদ মামুন, কেন্দ্রীয় দপ্তর উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মোস্তফা কামাল হুমায়ুন হিমু, টঙ্গী ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, ৫৩ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সেলিম মিয়াসহ অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার সোমবার সকালে তার টঙ্গীর আউচপাড়াস্থ বাসভবনে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

১৮ জুন প্রচারণা শুরু হলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে ধানের শীষের পক্ষে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের জন্য এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থেকে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হবে।

দুপুরে হাসান উদ্দিন সরকার নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি লিখিত অভিযোগ করেন। এগুলো হচ্ছে- ধর্মীয় উপাসনালয় মসজিদে ভোট চাওয়া ও নগদ অনুদান দেয়া, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ও পুলিশের গণগ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধের দাবি করেন তিনি।

অভিযোগে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও তার সমর্থকরা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনের বহু আকাঙ্ক্ষিত ‘লেভের প্লেয়িং ফিল্ড’ বিনষ্ট করছেন। গত ১১ মে মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম টঙ্গী সরকারি কলেজ জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে এসে মুসল্লিদের কাছে প্রকাশ্যে ভোট চান এবং ওই মসজিদে নগদ ২০ হাজার টাকার অনুদান দেন। অপরদিকে বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকলেও সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে মাইকিং এবং প্রচারণামূলক গান বাজনার আয়োজন করা হচ্ছে। গত ১৩ মে সিটি কর্পোরেশনের গাছা অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় নৌকা প্রতীকের মাইকিং করা হয় এবং একই দিন মালেকের বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাধ্যযন্ত্র বাজিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রচারণা চালানো হয়। এসব কর্মকাণ্ড ‘সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালা’ এর যথাক্রমে ৪, ২০ ও ৩ নং বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এছাড়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ও পুলিশের গণগ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তিনি।

মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/এমএস

আরও পড়ুন