‘ঠিকমতো ইফতার করতে পারি না, সেহরি খাওয়া হচ্ছে না’
‘টাকার অভাবে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগান দিতে পারছি না। ঠিকমত ইফতার করতে পারি না, সেহরি খাওয়া হচ্ছে না। ক’দিন পরেই ঈদ। বকেয়া বেতন না পেলে বউ-বাচ্চা নিয়ে নিরানন্দে ঈদ করতে হবে।’
এমন কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন, পঞ্চগড় চিনিকলের শ্রমিক নুর ইসলাম। চিনিকলের ওয়ার্কশপ ফিটার পদে কর্মরত নুর ইসলাম আরও বলেন, দিনের পর দিন বেতন বকেয়া থাকায় দোকানদার বাকিতে কিছু দিচ্ছে না। চিনিকল শ্রমিক হিসেবে তারা আমাদের নিয়ে উপহাস করে।
শ্রমিক নুর ইসলামের মতই অবস্থা পঞ্চগড় চিনিকলের প্রায় এক হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর। তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় শ্রমিক-কর্মচারীরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়ভাবে চিনিকলে উৎপাদিত মজুতকৃত চিনি বেচে বেতন নেয়ার কথা। কিন্তু আমদানি করা পরিশোধিত চিনির দরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকতে পারছে না দেশি চিনি। কেজি প্রতি ১০ টাকা দাম কমেও চাহিদা মত দেশি চিনি বিক্রি হচ্ছে না। বেতন ছাড়া ঠিকমত সেহরি ইফতার না করে পবিত্র রমজানের রোজা রাখছেন শ্রমিকরা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসন্ন ঈদের আনন্দ থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

পঞ্চগড়ের একমাত্র ভারি শিল্প কারখানা পঞ্চগড় চিনিকল। এখানে প্রায় ৪০০ চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারীসহ বর্তমান শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় এক হাজার।
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত চিনি বিক্রি করে বকেয়া বেতন পরিশোধের কথা জানায়। এজন্য ৬০ টাকা কেজি দরের চিনি ১০ টাকা কমিয়ে ৫০ টাকা দরে বিক্রয়ের নির্দেশনা আসে। কিন্তু এই খবরে আমদানিকৃত পরিশোধিত চিনির দামও কমিয়ে দেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা।
ফলে প্রাইভেট কোম্পানির পরিশোধিত চিনির দরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকতে পারছে না দেশি চিনি। বছরের পর বছর পঞ্চগড় চিনিকলের ভান্ডারে পড়ে থাকা অবিক্রিত চিনি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমদানিকৃত চিনির জন্য দাম কম দিয়েও বিক্রি করা যাচ্ছে না দেশি চিনি।

চিনি কলের ওয়ার্কশপ টার্নার গোলাম মোস্তফা বলেন, দেশি এই চিনি শিল্পের কারণে দেশের মানুষ আজ ৫০ টাকা কেজি দরে চিনি পাচ্ছেন। কিন্তু আমরা কাজ করেও নিয়মিত বেতন পাই না। দিনের পর দিন আমাদের বেতন বকেয়া থাকে। সামনে ঈদ। বকেয়া বেতন না পেলে বউ-বাচ্চা নিয়ে কি করবো, কোথায় যাবো?
পঞ্চগড় চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনুর রেজা বলেন, বেতন বকেয়া নিয়ে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সজাগ রয়েছেন। বর্তমানে চিনি ভান্ডারে মজুদকৃত চিনির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন। এই চিনির মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। চিনি বিক্রি করে বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য চিনির দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা কমানো হয়েছে। বর্তমানে ৫০ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি বেড়েছে। ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শ্রমিক-কর্মচারীদের সব বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হবে বলেও জানান তিনি।
সফিকুল আলম/এএম/জেআইএম