নষ্ট হয়ে গেল চাষিদের ২০০ একর জমির আখ
স্মরণকালের অসময়ে অতিবৃষ্টির কারণে চলতি রোপন মৌসুমে পাবনা সুগার মিলের আওতায় আখ চাষিদের সর্বনাশ হয়েছে। মিলের আওতায় ৩০০ আখ চাষির ২০০ একর জমির রোপনকৃত সব আখই নষ্ট হয়ে গেছে।
পাবনা সুগার মিল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি ২০১৭-১৮ রোপণ মৌসুমে পাবনা সুগার মিলে ৪ হাজার ৫ একর জমিতে আখ আবাদ হয়। এর মধ্যে ৬০ ভাগই হলো নামলা আবাদ। সেপ্টেম্বর মাস হতে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত আখ রোপনের উপযুক্ত সময় হলেও সময়মত জমি খালি না থাকায় অধিকাংশ জমিতে নামলা আখ রোপণ করা হয় ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে। নামলা আখ গজানোর কিছুদিন পরই অসময়ে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ফলে আখের গোড়ায় পানি জমে যায়। এ অবস্থায় একদিকে যেমন অনেক জমির আখ মারা যাচ্ছে, আখের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়েও অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ অঞ্চলে বিগত ৩০-৪০ বছরে মার্চ-এপ্রিল মাসে এত বিপুল বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়নি। তবে গত ২৬ মার্চ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত টানা ২৭ দিনে প্রায় ২২ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয় যা স্মরণকালে আর দেখা যায়নি।
পাবনা সুগার মিল কর্তৃপক্ষ জানায়, মিলের আওতায় ৩০০ কৃষকের ২০০ একর জমির আখ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ সব চাষি চিনিকল থেকে নেয়া ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে হতাশায় পড়েছেন।
পাবনা চিনিকলের মিলস গেট, মুলাডুলি, ঈশ্বরদী এবং আটঘরিয়া সাবজোনের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায় আখ চাষিদের হাহাকার।
মূলাডুলি সাবজোনের আখ চাষি আব্দুল আজিজ জানান, তিনি চিনিকলের ইসলামপুর কেন্দ্র থেকে ঋণ গ্রহণ করে এ বছর দশমিক ৩৩ একর জমিতে নতুন চারা আখ রোপন করেন। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিপাতে তার জমির সবই নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি জানান, অসময়ে এত বৃষ্টিপাত তিনি জীবনেও দেখেননি।
ইস্তা ইউনিটের চাষি বজলার রহমান জানান, তিনি পাবনা চিনিকলের একজন নিয়মিত চাষি। কিশোর বয়স থেকেই আখ চাষের সঙ্গে জড়িত। তার জমিতে আখের অঙ্কুরোদগম ভাল ছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধ হয়ে ১ একর জমির সব আখই নষ্ট হয়ে গেছে।
পাবনা চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী জনান, মৌসুমে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আখ সরবরাহ এবং ১৫ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় পাবনা চিনিকল। কিন্তু মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন আখ সরবরাহের বিপরীতে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন হয়। যা মাড়াই শুরুর ১৮ বছরে এক মৌসুমেও লাভের মুখ দেখেনি। আর এ বছরে রোপনকৃত আখের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
চিনিকল আখ চাষি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী বাদশা জানান, একদিকে দীর্ঘ মেয়াদি ফসল এবং অন্যদিকে উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম পান আখ চাষিরা। তারপরও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবারে এ অঞ্চলের আখ চাষিরা যে ক্ষতির সন্মুখিন হয়েছেন তা মরার উপর খাড়ার ঘাঁয়ের মত।
একে জামান/আরএ/এমএস