বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে উপচে পড়া ভিড়
ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে রয়েছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। এদিন দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার পর্যটক বিনোদনের জন্য পার্কে এসেছেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। ঈদের দিন এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার।
সবচেয়ে বেশি ভিড় রয়েছে পার্কের কোর সাফারি অংশে। এখানেই রয়েছে উন্মুক্ত পরিবেশে বাঘ, সিংহ, ভাল্লুকসহ বিভিন্ন প্রাণীর অবাধ বিচরণ। নির্দিষ্ট গাড়িতে করে ঢুকতে হয় ওই অংশে।
তবে কোর সাফারিতে ঢুকতে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা করে টিকিট নির্ধারিত থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রত্যেকের কাছ থেকেই ১০০ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিবার নিয়ে টঙ্গী থেকে সাফারি পার্কে এসেছেন প্রদীপ সরকার। তিনি অভিযোগ করেন, তার পাঁচ ও সাত বছরের দুই ছেলের জন্য কোর সাফারি পার্কের প্রবেশ করতে তাদের সমান অর্থাৎ ১০০ টাকা করেই নেয়া হয়েছে। এছাড়া পার্কে ঢুকতে মূল ফটকেও জনপ্রতি ৫০ টাকা করে দিতে হয়েছে।
একই কথা বলেন মুন্সিগঞ্জ থেকে পার্কে আসা মো. শামীম। তিনি তার স্কুল পড়ুয়া ৮ বছরের ছেলে নিয়ে এসেছেন। পার্কের প্রধান ফটকে ঢুকতে এবং কোর সাফারি অংশে প্রবেশ করতে বাচ্চার জন্যও তার একই পরিমাণ টাকার টিকিট কিনতে হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রীপুর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো ও বাঘ, সিংহ, হাতি, জেব্রা, জিরাফসহ অর্ধ শতাধিক প্রজাতির বিভিন্ন প্রাণী দেখতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী পর্যটক। কিন্তু শর্ত না মেনে শিশু ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজন অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। যদিও এ ব্যাপারে পাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের গেটের টিকিট ম্যানেজার মো. হাসান মিয়া অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন জানান, সাফারি পার্কে বর্তমানে বড় আকারের বাঘ রয়েছে ৯টি, সিংহ ২০টি, ভাল্লুক ১২টি, জিরাফ ১১টি। এছাড়া মরুভূমির প্রাণি উটপাখি, ক্যাঙ্গারু, কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রজাপতি দর্শকদের মোহিত করে। কোর সাফারি অংশে দর্শকদের অপেক্ষমাণ দীর্ঘ সারি থাকলেও সেখানে গাড়ি সংকট রয়েছে।
তিনি আরো জানান, সাফারি পার্কের এ অংশের ঠিকাদারদের লোকজন চুক্তি না মেনে সবার কাছ থেকে প্রবেশ মূল্য বাবদ ১০০ টাকা করে নেয়ার অভিযোগটি সত্য হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সাফারি পার্কটি ৫টি অংশে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো- ১. কোর সাফারি। ২. সাফারি কিংডম। ৩. বায়োডাইভার্সিটি পার্ক। ৪. এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক। ৫. বঙ্গবন্ধু স্কয়ার।
কোর সাফারি
এখানে গাড়ি ছাড়া কোনো পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন না। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে দুটি জিপ ও দুটি মিনিবাস। পর্যটক বা দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে গাড়ি বা জিপে করে প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে রাখা বন্যপ্রাণী দেখতে পারবেন।
সাফারি কিংডম
৫৫৬ একরের মধ্যে তৈরি করা এই অংশে ঢুকতে গেটের পাশেই ম্যাকাও ল্যান্ড। এখানে আছে নীল-সোনালি ম্যাকাও, সবুজ ম্যাকাও, আফ্রিকান গ্রে প্যারট, টিয়া, পেলিকেন, লুটিনো রিংনেক প্যারটসহ প্রায় ৩৪ প্রজাতির পাখি। সবগুলোই আফ্রিকা থেকে আনা হয়েছে।
ম্যাকাও ল্যান্ডের পাশেই মেরিন অ্যাকুরিয়াম। রয়েছে প্রায় ২০ প্রজাতির মাছ। ক্রোকোডিল ফিস, টাইগার ফিস, লুকিয়ে থাকা ব্ল্যাক গোস, অস্কার। রয়েছে চিকলেট মাছ যা ২০ সেকেন্ড পর পর রং পরিবর্তন করে।
এছাড়াও রয়েছে প্রজাপতি সাফারি। যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে। সাফারি কিংডমে রয়েছে প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র ফ্যান্সি কার্প গার্ডেন, জিরাফ ফিডিং স্পট, আইল্যান্ড, বোটিং ও লেইক জোন। তাছাড়া অর্কিড হাউস, শকুন ও পেঁচা কর্নার, ক্যাঙ্গারু, হাতি শো গ্যালারি ইত্যাদি।
সাফারি কিংডমের পশ্চিম অংশে আলাদাভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল তিনটি পাখিশালা। ধনেশ পাখিশালায় রয়েছে প্রায় আট প্রজাতির পাখি। এরইমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির প্যারট, ফিজেন্ট ধনেশ, ফ্লেমিংগো, ব্ল্যাক সোয়ান ও বিরল প্রজাতির মান্ডারিন ডাক ছাড়া হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু স্কয়ার
পার্কের প্রবেশ পথে পার্কিং এলাকা, বিনোদন উদ্যান ও প্রশাসনিক কাজে ৩৮ একর এলাকা নিয়ে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রধান ফটকের সামনে রয়েছে বিশাল পার্কিং এলাকা। এখানে নির্মাণ করা হয়েছে আকর্ষণীয় মুর্যাল ও মডেলসহ প্রধান ফটক, ফোয়ারা, জলাধার ও লেক।
তথ্যকেন্দ্র পার্ক অফিস, ডরমেন্টরি, বিশ্রামাগার, নেচার হিস্ট্রি মিউজিয়াম, ঐরাবতী বিশ্রামাগার, ময়ূরী বিশ্রামাগার, ইকো-রিসোর্ট, ডিসেপ্লে ম্যাপ, আরসিসি বেঞ্চ ও ছাতা।

এছাড়াও রয়েছে দুটি বিশালাকার পর্যবেক্ষণ রেস্তোরাঁ, একটির নাম টাইগার রেস্তোরাঁ অপরটি সিংহ পর্যবেক্ষণ রেস্তোরাঁ। এই দুটো রেস্ট্যুরেন্টে বসেই কাচের মধ্যে দিয়ে সিংহ এবং বাঘ দেখতে দেখতে খাওয়া দাওয়া করা যাবে।
আয়তন ও অবস্থান
ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় মাওনা ইউনিয়নে সাফারি পার্কটি অবস্থিত। ভাওয়াল গড়ের ছোট ছোট টিলা ও নিচু ভূমি সমৃদ্ধ বিশাল শালবনে তৈরি করা হয়েছে এই সাফারি পার্ক। ৩ হাজার ৬৯০ একর বিশাল আয়তনের এই পার্ক উপর থেকে দেখার জন্য রয়েছে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। ২০১০ সালে পার্কের কাজ শুরু হয়। আর ২০১৩ সালে পূর্ণাঙ্গ সাফারি পার্ক হিসেবে চালু করা হয়।
পার্কে প্রবেশ ফি
প্রাপ্ত বয়ষ্ক জন প্রতি পার্কে প্রবেশ টিকেট ৫০ টাকা এবং ১৮ বয়সীদের নিচে প্রবেশ ফি ২০ টাকা। শিক্ষা সফরে আসা বা সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা। গাড়িতে করে কোর সাফারি পার্ক পরিদর্শনের জন্য প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতিজনের টিকিট ফি ১শ' টাকা। অপ্রাপ্ত বয়ষ্কদের জন্য ৫০ টাকা।
যাতায়াত
গাজীপুরের চান্দনা-চৌরাস্তা থেকে বাঘের বাজার গেলেই চোখের পড়বে সাফারি পার্কের বিশাল সাইনবোর্ড। বাঘের বাজার থেকে সাফারি পার্কের দরজা পর্যন্ত যেতে রিকশা ও অটোরিকশা পাওয়া যায়। ভাড়া নিবে ৫০ থেকে ৮০ টাকা।
গাজীপুরের চান্দনা-চৌরাস্তা থেকে বাঘের বাজার পর্যন্ত যাওয়ার জন্য রয়েছে হিউম্যান হলার লেগুনা। ছুটির দিন ও সাধারণ দিন হিসেবে ভাড়ার মান নির্ভর করে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাতায়াত করা বাসে করেও বাঘের বাজার সরাসরি নামা যায়।
এফএ/পিআর
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ নোয়াখালীতে জামায়াত প্রার্থীসহ চারজনকে শোকজ
- ২ অন্যের জমিতে নির্বাচনি অফিস, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীকে শোকজ
- ৩ বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দোলা
- ৪ এক স্বৈরাচারকে সরিয়ে নতুন স্বৈরাচারকে বসানোর জন্য গণঅভ্যুত্থান করিনি
- ৫ শেরপুরে নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের দাফন সম্পন্ন