ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ফাঁদ থেকে রক্ষা পেল দুই কিশোরী

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৮:৪৬ এএম, ২১ জুন ২০১৮

মুঠোফোনে মাত্র ৫দিনের কথোপকথনে প্রেমে পড়ে ঘর ছাড়ে গোপালগঞ্জের কিশোরী রুবাইয়া (১৬)। রুবাইয়ার পক্ষে প্রেমের ছলনা বোঝার বয়স হয়নি। আর একারণেই প্রেমের ফাঁদে ধরা দিচ্ছিল সে। ভাগ্যের ফেরে এ যাত্রা থেকে রক্ষা পেয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছে রুবাইয়া। তবে রুবাইয়া নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারলেও প্রতারক প্রেমিকের সন্ধান পায়নি পুলিশ।

জানা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার উলারহাটি গ্রামের সদ্য এসএসসি পাস করা কিশোরী রুবাইয়ার সঙ্গে ঈদের একদিন আগে মুঠোফোনে পরিচয় হয় ফরিদপুরের এক ছেলের। এই কদিনে ছেলেটির কথার মারপ্যাচে তার প্রেমে পড়ে রুবাইয়া। ছেলের পরিচয় না জেনেও প্রেমের টানে গত মঙ্গলবার ছেলেটির সঙ্গে দেখা করতে গোপালগঞ্জ থেকে ফরিদপুরে আসে সে। সঙ্গে নিয়ে আসে প্রতিবেশী বান্ধবী ৮ম শ্রেণির ছাত্রী চুমকিকে।

রুবাইয়া ও চুমকি গোপালগঞ্জ থেকে ভাঙ্গা উপজেলা হয়ে ফরিদপুরে মঙ্গলবার বিকেলে এসে পৌঁছায়। পৌঁছানোর পর ছেলেটির সঙ্গে কথা হয় তাদের। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা এভাবে করতে করতে সন্ধ্যা নেমে আসে। তবুও ছেলেটির দেখা পায় না তারা।

রাত ৯টার দিকে ছেলেটি ফোনে বলে ফরিদপুর শহরের র্যাফেল্স ইন হোটেলের সামনে আসতে। অবশেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রুবাইয়ার সামনে হাজির হয় ছেলেটি। তখন সেখান থেকে রুবাইয়া তার বান্ধবী এবং ওই ছেলেটি ও তার সঙ্গে থাকা অপর দুটি ছেলেসহ অটোতে ওঠে। ওরা ছাড়াও ওই অটোতে আরও যাত্রী ছিল।

অটোতে শহরের গোয়ালচামট নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার দিকে যাওয়ার সময় তাদের কথোপকথনে অন্য যাত্রীদের মনে সন্দেহ হয়। তারা নতুন বাসস্ট্যান্ড পৌঁছামাত্রই ওই যাত্রীরা ওই ছেলেটি ও রুবাইয়াকে আটকানোর চেষ্টা করে। এ সময় রুবাইয়াকে রেখে ওই ছেলেরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা থানা পুলিশে খবর দিলে কোতয়ালি থানার এসআই মো. শামীম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রুবাইয়া ও চুমকিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম নাসিম বলেন, রাত ১০টার দিকে দুই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের জিঙ্গাসাবাদে জানতে পারি মুঠোফোনে একটি ছেলের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরেই তারা ওই ছেলেটির সঙ্গে দেখা করতে ফরিদপুরে আসে। তাদের কাছ থেকে পরিচয় ও ঠিকানা জেনে পরিবারের লোকদের খবর দেই। পরিবারের পক্ষ থেকে রুবাইয়ার বড় ভাই মো. রানার থানায় আসেন। রাত ২টার দিকে ওই কিশোরীদের তার জিম্মায় দিয়ে দিই।

এফএ/এমএস

আরও পড়ুন