ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পাবনায় শিশু হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজশাহী | প্রকাশিত: ০৫:০৭ পিএম, ২৮ জুন ২০১৮

পাবনার চাটমোহরে চার বছরের শিশু আব্দুল্লাহ্ আল নূর হত্যা মামলায় সোহেল বিশ্বাস নামে এক আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল বিশ্বাস চাটমোহর পৌরসভার চৌধুরীপাড়া মহল্লার নজরুল ইসলামের ছেলে।

ওই মামলায়র আরেক আসামি আবদুস সামাদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তিনি নিহত ওই শিশুর ফুপা। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীও তিনি। তবে ওই মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

এরা হলেন- নিহত শিশু নূরের বাবা আবুল হোসেনের বোনের ছেলে কবির হোসেন, আবুল হোসেনের সৎমা আয়েশা বেওয়া ও সোহেল বিশ্বাসের স্ত্রী আজিজা আক্তার রূপা।

রায় ঘোষণার সময় মামলার পাঁচ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের বিশেষ পিপি এন্তাজুল হক বাবু।

মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, নিহত শিশু নূর জন্মসূত্রে গ্রিসের নাগরিক। গ্রিস থেকে ফেরার পর তার বাবা আবুল হোসেন চাটমোহর পৌরসভার হারান মোড় মহল্লায় দোতলা একটি বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। এই বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন সোহেল বিশ্বাস। ২০১৪ সালের ২৫ জুন শিশু নূর নিখোঁজ হয়। সেদিন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নূরের বাবার কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এর দুই দিন পর স্থানীয় ভাদড়া এলাকার জলমগ্ন একটি আবাদি জমি থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় নূরের মাথা, দুটি হাত ও নাড়িভুড়িবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন আবুল হোসেন ছেলের প্যান্ট এবং মাদুলি দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন। পুলিশ এ দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আবুল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া সোহেল বিশ্বাসকে আটক করে। এ সময় তার ঘর থেকে রক্তমাখা দা, বটি, চাকু, স্কুলব্যাগ ও পলিথিন উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সোহেল বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে তার স্ত্রীসহ আটজনের বিরুদ্ধে চাটমোহর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগপত্র থেকে তিনজনকে বাদ দেয়া হয়।

মামলাটি প্রথমে পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ বিশেষ টাইব্যুনালে চলে। পরে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি রাজশাহী দ্রুত বিচার টাইব্যুনালে পাঠানো হয়। দ্রুত বিচার টাইব্যুনালের বিচারক যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ এবং মামলার নথি পর্যালোচনা সাপেক্ষে হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা করলেন।

তবে এ রায়ে সংক্ষুদ্ধ নিহত শিশু নূরের বাবা আবুল হোসেন। তিনি বলেন, একই ঘরে স্বামী-স্ত্রী মিলে আমার ছেলেকে হত্যা করলো। কিন্তু একজনের ফাঁসির আদেশ এবং অপরজনকে খালাস দেয়া হলো। তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতেযাবেন বলে জানান।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/আরএআর/পিআর

আরও পড়ুন