মুরিদ সেজে ভণ্ড পীরের আসরে পতিতা, হাতেনাতে ধরা
ফাইল ছবি
সিরাজগঞ্জে ভণ্ড পীরের বাড়িতে মধুচক্র থেকে খদ্দেরসহ এক পতিতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুরিদ সেজে ভণ্ড পীরের আসরে যায় ওই পতিতা।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের ডায়া পূর্বপাড়া গ্রামের আবদুল কাদের ফকির ওরফে টনক খুলু নামের ভণ্ড পীরের বাড়িতে অভিযানে যায় পুলিশ।
এ সময় পতিতা নিয়ে বাড়ির একটি কক্ষে ফুর্তি করার সময় আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে ভণ্ড পীর। পাশাপাশি ঘরের অপর একটি কক্ষ থেকে পীরের এক সহযোগীকে পতিতা নিয়ে ফুর্তি করার সময় আপত্তিকর অবস্থায় ধরা হয়। এর মধ্যে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে ভণ্ড পীর ও এক পতিতা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে এক পতিতা ও এক খদ্দেরকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শাহজাদপুর উপজেলার শরিষাকোল গ্রামের মন্টু মণ্ডল (৪৭) ও মাগুড়া জেলার মোহাম্মদপুর থানার কানুটিয়া গ্রামের তরুণী (২৫)। এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানার এসআই সাচ্চু বিশ্বাস বাদী হয়ে এদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।
গতকাল শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃতদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহজাদপুর থানা পুলিশের ওসি খাজা গোলাম কিবরিয়া।
তিনি বলেন, পতিতা ও খদ্দের গ্রেফতার হলেও ভণ্ড পীর ও অপর এক পতিতা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা রহস্যজনক। তাদের উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, পোরজনা গ্রামের আবদুল কাদের ফকির ওরফে টনক খুলু গ্রাম থেকে বিতাড়িত হয়ে এক যুগ আগে ডায়া গ্রামে বসতি স্থাপন করে। এরপর গ্রামের কিছু প্রভাবশালীর সহযোগিতায় বাউল তরিকার পীর ব্যবসা শুরু করে। এরপর থেকে তার বাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে মুরিদ বেশে পতিতা ও খদ্দেরের আনাগোনা শুরু হয়।
সম্প্রতি তারা মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়লে গ্রামে বহিরাগত মাদকসেবীর আনাগোনা চরম হারে বেড়ে যায়। এতে গ্রামের নিরীহ পরিবারের সন্তানরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ে। এ থেকে রক্ষা পেতে শুক্রবার রাতে পুলিশের সহযোগিতায় ভণ্ড পীরের আস্তানায় যায় গ্রামবাসী। সেই সঙ্গে তাদের হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ সময় ভণ্ড পীর এক পতিতা নিয়ে পালিয়ে যায়।
যদিও শনিবার দুপুরে ডায়া পূর্বপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ভণ্ড পীর আবদুল কাদের ফকির ওরফে টনক খুলু তার নিজ ঘরেই বসে আছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি পুরো ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, তার বাড়িতে কোনো রকম পতিতাবৃত্তি ও মাদক ব্যবসা করা হয় না।
তার দাবি, শুক্রবার গ্রেফতার দুইজনকে এলাকার কতিপয় বখাটে যুবক ধাওয়া করলে তারা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে এসে তার আস্তানায় আশ্রয় নেন। এ দুই অসহায় ব্যক্তিকে তাদের হাত থেকে রক্ষার্থে আশ্রয় দেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের কিছু ব্যক্তি তার সম্পর্কে এ ধরনের মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন।
তার এমন অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রামের আবদুল মতিন, সরোয়ার হোসেন, আবু জাফর ও নূর মোহাম্মদ নূরু বলেন, আমরা তাদের আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিয়েছি। ভণ্ড পীর নিজের অপকর্ম ঢাকতে এসব মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।
এএম/এমএস