‘শিশু আদালতে লালসালু ও কাঠগড়া থাকবে না’
সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের বিচারপতি ও সুপ্রিমকোর্ট স্পেশাল কমিটি অন চাইল্ড রাইটস'র সভাপতি মোহাম্মদ ইম্মান আলী বলেছেন, শিশুদেরকে ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের আওতার বাইরে রাখতে হবে। শিশু আদালতে লালসালু থাকবে না, কাঠগড়া থাকবে না।
তিনি বলেন, শিশু আদালতের জজ সাহেবদের চেম্বারকে কোর্টে পরিণত করতে হবে। পরিবেশটা এমন হতে হবে- যেন শিশু মনে করতে না পারে সে কোর্টে আছে। অন্যান্য ক্রিমিনালদের সঙ্গে শিশু যেন জড়িয়ে না যায় সেই বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। ১৯৭৪ সালের আইনে আছে শিশুর বিচার হবে ঘরোয়া পরিবেশে। সেই লক্ষে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
সুপ্রিমকোর্ট স্পেশাল কমিটি অন চাইল্ড রাইটস ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর আয়োজনে শনিবার কুমিল্লা কোটবাড়িতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিশু আইন ২০১৩ এর কার্যকর বাস্তবায়ন পর্যালোচনা বিষয়ক চট্টগ্রাম বিভাগীয় ২য় অংশের সেমিনারে চট্টগ্রাম বিভাগের ৬ জেলার বিচারক, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও আইন কর্মকর্তাদের নিয়ে এ আয়োজন করা হয়।
ওই সেমিনারে শিশু আইনে কি ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, শিশুদের প্রতি আদালতের আন্তরিকতা কতটুকু হবে এসব বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুপ্রিমকোর্ট স্পেশাল কমিটি অন চাইল্ড রাইটস এর সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার, বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান মাধুরী ব্যানার্জী, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এসএম রোকন উদ্দিন প্রমুখ।
সেমিনারে কুমিল্লার বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ কেএম সামছুল আলম, জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিজ্ঞ জেলা জজ, শিশু আদালতের বিজ্ঞ বিচারক, বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।
কামাল উদ্দিন/এমএএস/আরআইপি