ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বগুড়ায় মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ০৪:২৯ পিএম, ১৭ জুলাই ২০১৮

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নিমকুড়ি গ্রামে মসজিদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া কমিটি দিয়ে স্থানীয় এমপির বরাদ্দ দেয়া এক লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ওই গ্রামের মুসল্লিদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মসজিদ কমিটির মোতাওয়াল্লী আব্দুর রহমান মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, বগুড়া-৩ এলাকার এমপি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম তালুকদার নিমকুড়ি জামে মসজিদের উন্নয়ন কল্পে টিআর প্রকল্প থেকে এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। এরপর ওই গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দীক, বেলাল হোসেন, তাহাজ্জত আলী, ফজলুর রহমান, আল আমিনসহ কয়েকজন মসজিদ কমিটিকে বিষয়টি না জানিয়ে মসজিদের নাম ব্যবহার করে গোপনে কমিটি করে আদমদীঘি উপজেলা প্রকল্প অফিসে জমা দেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কোনো খোঁজখবর না নিয়ে তাদের প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দেন। এই টাকা তুলে নিয়ে ওই ব্যক্তিরা আত্মসাৎ করেন। পরে বিষয়টি গ্রামে জানাজানি হলে মুসল্লিদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়।

মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি আব্দুর রহমান জানান, মসজিদের নাম ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করা হলেও বিষয়টি মসজিদ কমিটির বা গ্রামের কাউকে জানানো হয়নি। মসজিদের নামে যে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে সেখানে আবু বক্কর সিদ্দীক সভাপতি ও বেলাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তারা মসজিদ কমিটির কোনো সদস্য নয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাও এ ব্যাপারে কোনো খোঁজ নেননি। ওরা টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। মসজিদের নামে গোপনে টাকা উত্তোলনের ঘটনা জানার পর বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন, চাঁন মিয়া ও মিজানুর রহমান জানান, তারা ওই প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

ভুয়া প্রকল্প কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, টাকা উত্তোলনের বিষয়টি গ্রামবাসী ও মসজিদ কমিটিকে জানানোর সময় পাইনি। টাকা তোলার স্বার্থে একটি কমিটি দেখানো হয়েছিলো। এখন উত্তোলন করা টাকা জমা দেয়া হবে।

আদমদীঘি উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) আশরাফুল আরেফিন বলেন, বরাদ্দটি স্থানীয় এমপির। তিনি যে প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন আমাদের কাছে সেটিই আইনগতভাবে বৈধ। তবে মসজিদের নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা তুলে আত্মসাতের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। মসজিদের টাকা আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই।

লিমন বাসার/এএম/পিআর

আরও পড়ুন