ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

উত্ত্যক্তের বিচার করায় ছুরিকাঘাতে অধ্যক্ষসহ আহত ৩

জেলা প্রতিনিধি | হবিগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৫:৪৭ পিএম, ১৭ জুলাই ২০১৮

কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের বিচার করায় বখাটের ছুরিকাঘাতে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম হোসেন আজাদসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত দু’জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত কলেজছাত্রী চৈতীকে (১৮) প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই হামলাকারী দিপন আহমেদ মুন্না পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার সহযোগী হুমায়ুন কবিরকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করা হয়।

হামলাকারী দিপন নবীগঞ্জ পৌর এলাকার মদনপুর গ্রামের নূরুজ্জামান ফারুকীর ছেলে। আটত হুমায়ুন একই গ্রামের জলফু মিয়ার ছেলে।

Habigonj-pIC--(3)

এ দিকে ঘটনার প্রতিবাদে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শহরে বিক্ষোভ করে এবং রাস্তা অবরোধ করে রাখে। পরে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, দিপন প্রায়ই কলেজের ছাত্রীদের উত্যক্ত করতো। সোমবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অনার্স ২য় বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে জোরপূর্বক সেলফি তোলার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম হোসেন আজাদের কাছে অভিযোগ করলে তিনি মুন্নার প্রতি ক্ষুব্ধ হন। পরে মুন্নার পরিবার ওই কলেজ ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করে অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানায়। এর জের ধরে মঙ্গলবার কলেজে যাওয়ার পথে বখাটে মুন্না তার দলবল নিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আজাদের গলায় ও হাতে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় অধ্যক্ষকে বাঁচাতে কলেজের দপ্তরি ফয়জুর রহমান এগিয়ে গেলে তিনি ছুরিকাঘাতের শিকার হন। এ দিকে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে ছাত্রী চৈতী আহত হন। পরে শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হলে মুন্না দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে তার সহযোগী হুমায়ুনকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করা হয়েছে।

‘ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেট দিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা কলেজের সামনের রাস্তায় বন্ধ রাখে। একপর্যায়ে শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের আলোচনার প্রেক্ষিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ তোলে নেয়া হয়।’

Habigonj-pIC--(1)

পরে বখাটে মুন্নাকে গ্রেফতারের দাবিতে এবং অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এতে বক্তব্য রাখেন- পৌরসভার সাবেক মেয়র অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী, প্রভাষক ফজলে এলাহী ফরহাদ, প্রদর্শক দুদু মিয়া প্রমুখ।

নবীগঞ্জ থানার ওসি এসএম আতাউর রহমান ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে মুন্নাকে গ্রেফতারের আশ্বাস দেন এবং সকলের সহযোগিতার দাবি জানান।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/আরএ/পিআর

আরও পড়ুন