অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মেরে ফেললেন স্বামী
প্রতীকী ছবি
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি গ্রামে চায়না বেগম (২৫) নামের ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গৃহবধূ চায়না বেগম উপজেলার ফুলসুতি গ্রামের সোহাগ মোল্যার স্ত্রী ও লস্করপুর গ্রামের জালাল মাতুব্বরের মেয়ে। বুধবার দুপুরে স্বামীর বাড়ি থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার ফুলসুতি গ্রামের মাজেদ মোল্যার ছেলে সোহাগ মোল্যার সঙ্গে লস্করপুর গ্রামের জালাল মাতব্বরের মেয়ে চায়না বেগমের প্রায় ৬ বছর আগে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের সংসারে ৪ বছর বয়সের এক পুত্রসন্তান রয়েছে এবং বর্তমানে চায়না বেগম ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত থাকায় বিয়ের পর থেকেই মাঝেমধ্যে নেশার টাকা চেয়ে স্ত্রীকে মারপিট করতেন। মাদকাসক্ত স্বামী সোহাগকে মাদক সেবনে বাধা দিলে স্ত্রী চায়নাকে মারপিট করা হতো।
চায়না বেগমের ভাই নান্নু মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সোহাগের বোন কেয়া আক্তার মোবাইল ফোনে আমাদের সংবাদ দেয়, চায়না ঘরের দরজা থেকে পড়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়েছে। আমি ও আমাদের পরিবারের লোকজন রাতেই চায়নার স্বামীর বাড়িতে যাই। গিয়ে দেখি চায়নার মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। এ সময় চায়নার শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়। আমরা নগরকান্দা থানায় খবর দিলে পুলিশ বুধবার দুপুরে চায়নার মরদেহ উদ্ধার করে। মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় চায়নাকে তার মাদকাসক্ত স্বামী সোহাগ শ্বাসরোধে হত্যা করেছে।
নগরকান্দা থানা পুলিশের ওসি সৈয়দ লুৎফর রহমান বলেন, চায়নাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে চায়নার ভাই নান্নু মাতব্বর বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এএম/এমএস