ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

১৮ মাস অফিস না করেই বেতন তুললেন প্রশিক্ষক!

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ০২ আগস্ট ২০১৮

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসের প্রশিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম ১৮ মাস ১০ দিন অফিস না করেই বেতন-ভাতা তুলেছেন।

এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভারপ্রাপ্ত আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা (প্রশিক্ষক) ফজিলাতুননেছা। এর প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে হাজিরা খাতা নিয়ে টানাটানি করার সময় রবিউলের বিরুদ্ধে লাঞ্ছিতের অভিযোগ করেছেন ফজিলাতুননেছা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রশিক্ষক রবিউল ইসলাম। খবর পেয়ে জেলা কমান্ডেন্ট ওই দিন বিকেলে আলফাডাঙ্গা ছুটে যান। এ ঘটনায় ঢাকা বিভাগের পরিচালকের নির্দেশে প্রশিক্ষক ফজিলাতুননেছাকে বৃহস্পতিবার থেকে ফরিদপুর অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রশিক্ষক ফজিলাতুননেছা ভারপ্রাপ্ত আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার দায়িত্ব পান। মো. রবিউল ইসলাম ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল থেকে উপজেলা প্রশিক্ষক হিসেবে আলফাডাঙ্গায় কাজ শুরু করেন। ওই বছরের ২১ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১৮ মাস ১০ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন এবং হাজিরা খাতায়ও তার স্বাক্ষর নেই।

যদিও নিয়মিত বেতন তুলে নিয়েছেন তিনি। ১৮ সালের ১ এপ্রিল গিয়ে পুনরায় কাজে যোগদান করেন। এ সময় তিনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না জানিয়ে ৬টি ইউনিয়নের নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রশিক্ষণের ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এসব বিষয় উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ফজিলাতুননেছা মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন এবং হাজিরা খাতায় লাল কালির দাগ দিয়ে রাখেন।

অভিযোগের পর মনিটরিং সেলের মোরশেদ আলম বিষয়টি তদন্ত করেন। বুধবার রবিউল অফিসে গিয়ে নতুন খাতায় স্বাক্ষর করেন এবং পুরাতন হাজিরা খাতাটি নিয়ে নেন। পুরাতন খাতাটি নিয়ে টানাটানির সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, রমজান মাসে সম্ভবত ৩-৭ জুন একটি প্রশিক্ষণ করাই। সেখান থেকেই ফজিলাতুননেছার সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। আমি একজন প্রশিক্ষক হিসেবে জেলা অফিসারের নির্দেশে ফরিদপুর জেলা অফিসে অধিকাংশ সময় থাকি। সে কারণে নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা হয় না। বুধবার অফিসে গেলে হাজিরার জন্য নতুন খাতা দেয়া হয়। পুরনো খাতায় আমার হাজিরার স্থানে লাল কালি দিয়ে মার্ক করা হয়। জেলা অফিসারকে দেখানোর জন্য খাতাটি আমি নিয়ে যাই। খাতা কাড়াকাড়ির সময় ফজিলাতুননেছা আমার পিঠে ৩-৪টা ঘুষি মারেন। তখন আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিই। তার গায়ে আমি হাত তুলিনি।

উপজেলা প্রশিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা) ফজিলাতুননেছা বলেন, ভারপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে বেতন ভাতায় জেলা কমান্ডেন্ট স্বাক্ষর করেন। হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত করার ক্ষমতা আমার নেই। তাই লাল কালি দিয়ে মার্কিং করে দিয়েছি। ওপরের অফিসারের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কারণে তিনি আমাকে মানেন না। সব সময় হুমকি ধামকি দেন। রবিউলের কাছে খাতা চাইতে গেলে তিনি আমাকে দুই বার ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। আমি তাকে কিল-ঘুষি মারিনি। দোষ করলেন রবিউল অথচ অন্যায়ভাবে আমাকে জেলা অফিসে বদলি করা হলো।

আনসার ও ভিডিপি জেলা কমান্ডেন্ট অফিসার এনামুল খাঁন বলেন, খবর শুনে আলফাডাঙ্গায় ছুটে যাই। দুইজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় পরিচালকের নির্দেশে ফজিলাতুননেছাকে ফরিদপুর জেলা অফিসে ক্লোজড করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রবিউল প্রশিক্ষক হিসেবে মাঝেমধ্যে ফরিদপুর থেকেছেন। তখন তাকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয় বিষয়টি।

এএম/পিআর

আরও পড়ুন