নিরাপত্তার অজুহাতে গাইবান্ধায় বাস বন্ধ
কাগজপত্র সঠিক না থাকা ও সড়কে নিরাপত্তার অজুহাতে বাস চালাতে অনুমতি দিচ্ছেন না গাইবান্ধার বাস মালিকরা। ফলে শুক্রবার সকাল থেকেই গাইবান্ধা থেকে সকল রুটের বেশিরভাগ বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় বাসস্ট্যান্ডে এসে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী কয়েক হাজার যাত্রী। বাসের কাগজপত্র ঠিক থাকায় সকাল থেকে কয়েকটি বাস চলাচল করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় ছিল খুবই কম। ফলে বেশি ভাড়া দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে মানুষকে।
বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস চালানো নিরাপদ নয়। গাইবান্ধা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, পাবনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, বগুড়া ও রংপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে দুই শতাধিক বাস চলাচল করে। এসব পরিবহনে কর্মরত এক হাজারেরও বেশি মানুষ। শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গাইবান্ধা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে ১০টিরও বেশি বাস।
শুক্রবার বিকেলে গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে, বগুড়াগামী মারিয়া পরিবহনের একটি বাস ছেড়ে যাওয়ার জন্য যাত্রীদের ডাকছেন শ্রমিকরা। অন্যান্য বাসচালক, হেলপার ও সুপারভাইজাররা বাসস্ট্যান্ডে বাসের ভেতরে বসে গল্প করছেন। অনেকে বাস পরিষ্কার করছেন। বাস না পেয়ে বাসস্ট্যান্ডের সামনে থেকে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় উঠে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা। ঢাকাগামী যাত্রীরা কাউন্টারগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসচালক বলেন, ঢাকায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিভিন্নস্থানে যানবাহন ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটছে। তাই বর্তমানে সড়কে বাস চালানো নিরাপদ নয়। এজন্য ঢাকা থেকে ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবার ঢাকা থেকে বাস চলাচলের অনুমতি পাওয়া গেলে বাস চালানো শুরু করবো।
জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গৌতম কুমার বিশু বলেন, রুট পারমিট, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকাসহ সড়কে নিরাপত্তার অভাবে গাইবান্ধায় গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব কারণে মালিকরা গাড়ি চালাতে অনুমতি দিচ্ছেন না। অনেক গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নিরাপত্তার অভাবে সে বাসগুলোও চালানো হচ্ছে না।
কিছু গাড়ির কাগজপত্রে সমস্যা থাকতে পারে স্বীকার করে জেলা মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিবুল আমিন নান্নু জাগো নিউজকে বলেন, কাগজপত্র সঠিক না থাকার কারণে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে কথাটি ঠিক নয়। মূলত সড়কে নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমরা বাস চালাতে অনুমতি দিচ্ছি না। সড়কে নিরাপত্তা পাওয়া গেলে আমরা অবশ্যই বাস চলাচল শুরু করবো।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ-আল-ফারুক বলেন, বাস মালিক কিংবা শ্রমিক সংগঠনের কোনো ব্যক্তি সড়কে গাড়ি চালানোর নিরাপত্তা চেয়ে কিছু জানাননি।
রওশন আলম পাপুল/আরএআর/এমএস