বাঘারপাড়ায় বৃদ্ধকে গলা কেটে হত্যা
যশোরের বাঘারপাড়ায় তফসির মোল্যা (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার ভোর রাতে বাঘারপাড়া উপজেলার প্রেমচারা গ্রামের নিজবাড়ির বারান্দায় ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ‘রাজাকার’ আমজাদ হোসেনের মামলায় সাক্ষ্য প্রদান-সংক্রান্ত ঘটনায় তাকে খুন করা হয়েছে।
নিহতের চাচাতো ভাই এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ‘রাজাকার’ আমজাদ হোসেনের মামলার সাক্ষী ইয়াহহিয়া রহমান জানান, মামলায় সাক্ষ্য দিতে নিষেধ করে আমজাদের ছেলে খোকন ও তার বাহিনী। তারা হুমকি দেয়, ‘যদি সাক্ষ্য থেকে না ফিরে আসেন, তাহলে আপনার বংশে বাদী হওয়ার মতো কাউকে রাখা হবে না।’ কিন্তু তিনি সিদ্ধান্তে অবিচল থাকায় তার ভাইকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাতে তার ভাই নিজবাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোর রাতে সন্ত্রাসীরা তাকে গলা কেটে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডে খোকন ও তার বাহিনীর সদস্য জাহিদুল, টুটুল মণ্ডল, জুলফিকার, মানিক, আলম, আশিক, শহিদুল, মনির, তোরাব জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ইয়াহহিয়া রহমান জানান, কয়েকমাস আগেও তারা তার ভাই খালেক ও ভাতিজা জহিরকে দুই দফা ব্যাপক মারধর করে। তারা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাও নিয়েছেন।
বন্দবিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান বলেন, আমজাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলা হওয়ার পর থেকেই দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। প্রায় এক বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে গণ্ডগোল চলে আসছে। দুই মাস আগে ওই পক্ষের জবেদ আলী নামে একজন খুনও হয়। তফসির হত্যাকাণ্ড তারই ধারাবাহিকতা।
বাঘারপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল আলম বলেন, সকালে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
মিলন রহমান/আরএআর/আরআইপি