কাবিন ছাড়াই বিয়ে, সেই শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত
গোপালগঞ্জে স্কুল শিক্ষিকার সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে দায়েরকৃত মামলায় অবশেষে মুকসুদপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সি রুহুল আসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) নার্গিস সাজেদা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়। গত ৫ জুন থেকে সাময়িক বরখাস্তের এ আদেশটি কার্যকর করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, শিক্ষিকার আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার মালিবাগের সিআইডি কার্যলয়ে তার গর্ভজাত সন্তান মুন্সি আবরার রুহিত ও শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সি রুহুল আসলামের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে শিক্ষিকা উল্লেখ করেন, ২০১০ সালে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন তিনি।
মুন্সি রুহুল আসলাম একই উপজেলায় সহকারী শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। চাকরির সুবাদে রুহুল আসলামের সঙ্গে শিক্ষিকার পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
একপর্যায়ে রুহুল আসলাম বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তার ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে শিক্ষিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়েন। ২০১২ সালে শিক্ষিকা বিয়ের জন্য চাপ দিলে শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আসলাম মৌলভী ডেকে শিক্ষিকাকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতে থাকেন। কিন্তু বিয়ে রেজিস্ট্রির কথা বললে শিক্ষা কর্মকর্তা নানা অজুহাত দেখিয়ে টালবাহানা করেন। এরই মধ্যে ২০১৪ সালে শিক্ষিকা অন্তঃসত্ত্বা হন এবং পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।
এরপর রুহুল আসলাম কৌশলে শিক্ষিকার কাছ থেকে নিজেকে গুঁটিয়ে নেন। সেই সঙ্গে কাশিয়ানী উপজেলা থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে যান। একপর্যায় সন্তানকে অস্বীকার করেন রুহুল আসলাম। পরে শিক্ষিকা বদলি হয়ে গোপালগঞ্জ সদরে চলে আসেন। পাশাপাশি শিক্ষিকা বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হন। পরে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেন শিক্ষিকা। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আসলাম কৌশলে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখেন।
অবশেষে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল গোপালগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন শিক্ষিকা। আদালত রুহুল আসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও তিনি টাকার বিনিময়ে ম্যানেজের চেষ্টা চালান। পরে শিক্ষিকা আদালতে ডিএনএ টেস্টের আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আদালত।
আদালতের নির্দেশে শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সি রুহুল আসলাম, ওই শিক্ষিকা ও তাদের ছেলে মুুন্সি আবরার রুহিতকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে গতকাল ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।
এরই মধ্যে রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) নার্গিস সাজেদা সুলতানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শিক্ষা কর্মকর্র্তা মুন্সি রুহুল আসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এস এম হুমায়ূন কবীর/এএম/পিআর