বীরগঞ্জে আহত নৈশপ্রহরীর মৃত্যু
ফাইল ছবি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সুরুজ আলী (৪০) নামে এক নৈশপ্রহরীকে গলা কেটে হত্যা ও অপর নৈশপ্রহরী মো. শহীদ (৩৮) এবং তার ৩ বছরের শিশু সন্তান মো. একরামুলকে ছুরিকাঘাত করেন রবিউল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবক। ঘটনায় পর বিক্ষুব্ধ জনতা রবিউল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় আহত নৈশপ্রহরী মো. শহীদ বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপালে মারা গেছেন। তবে তার ছেলে মো. একরামুল সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বীরগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর মো. আব্দুল্ল্যা আল হাবিব মামুন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বীরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. দুলাল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল নিহতের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে এবং পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিলা পারভীন বলেন, এ ধরণের ঘটনা যেন আর না ঘটে সে ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন হয়রানি না হয় এবং কেউ যেন মিথ্যে অপপ্রচার চালাতে না পারে সেক্ষেত্রে সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ করছি।
প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ভোরে বীরগঞ্জ শালবাগান মোড় নামক স্থানে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালনকালে সুরুজ আলীকে গলা কেটে করে হত্যার পরপরই বীরগঞ্জ হাটখোলা মোড়ে পালনকালে অপর নৈশপ্রহরী মো. শহীদ এবং তার ছেলে মো. একরামুলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান রবিউল ইসলাম। ঘটনার পর ভোর ৫টা থেকে দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা জেল খানা মোড় এলাকায় রবিউল ইসলামের বাড়িতে রক্তমাখা কাপড় দেখতে পেয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। সকাল ৮টার দিকে তাকে কাহারোল উপজেলার ১৩ মাইল গড়েয়া নামক স্থানে খুঁজে পাওয়া যায়। বিক্ষুব্ধ লোকজন তাকে ধরে নিয়ে বীরগঞ্জ শালবাগান মোড়ে এনে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় বীরগঞ্জ থানায় দুইটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিউল ইসলাম এলাকায় মাদকসেবী এবং সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
ইমদাদুল হক/আরএআর/জেআইএম