ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শিশুটিকে পেয়ে কাঁদলেন নিঃসন্তান মা-বাবা

জেলা প্রতিনিধি | কুড়িগ্রাম | প্রকাশিত: ০৫:৫৬ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৮

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে জন্ম নেয়া পিতৃহীন স্বাধীনের নতুন ঠিকানা হলো নিঃসন্তান এক দম্পতির পরিবারে। নিঃসন্তান মমিনুল ইসলাম ও মৌসুমি আক্তারের ১০ বছরের দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান ছিল না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন নিজ হাতে স্বাধীনকে মমিনুল ও মৌসুমি আক্তারের কোলে তুলে দেন। এতে স্বাধীন পায় নতুন বাবা-মা।

পাশাপাশি স্বাধীনের মা মানসিক ভারসাম্যহীন নাসিমা বেগমের দায়িত্ব নেন মৌসুমি আক্তারের বাবা রিকশাচালক সৈয়দ আলী। স্বাধীনকে তার নতুন মা-বাবার কোলে তুলে দেয়ার সময় কিছু টাকাও দেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. এসএম আমিনুল ইসলাম, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম আনোয়ারুল হক প্রামাণিক, ফুলবাড়ির ইউএনও দেবেন্দ্রনাথ ঊরাঁও ও কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু।

সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের দিনমজুর মমিনুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মৌসুমি আক্তার স্বাধীনকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ১০ বছর হলো আমাদের সংসারে সন্তান নেই। সন্তান না থাকার যন্ত্রণা আমরা বুঝি। মা ডাক শোনার অপেক্ষায় কেটেছে ১০টি বছর। শুধু মা ডাক শোনার জন্য স্বাধীনকে দত্তক নিয়েছি বলে কেঁদে ফেলেন মৌসুমী।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. এসএম আমিনুল ইসলাম বলেন, গত ৮ আগস্ট দুপুরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন মানসিক ভারসাম্যহীন নাসিমা বেগম। খবর পেয়ে শিশুটিকে দেখতে সদর হাসপাতালে আসেন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন। তিনি বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে আদর করে নাম রাখেন স্বাধীন।

ডা. এসএম আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, অনেকে শিশুটির দায়িত্ব নিতে চাইলেও মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়নি। ফলে কাউকে শিশুটি দত্তক দেয়া হয়নি। অবশেষে মমিনুল ও মৌসুমি দম্পতি বাচ্চা ও তার মায়ের দায়িত্ব নেয়ার কথা জানান। পরে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাচ্চা ও তার মাকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, একজন মা হিসেবে আমি স্বাধীনের দায়িত্ব নিয়েছি। মানসিক ভারসাম্যহীন মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিঃসন্তান দম্পতির কাছে দেয়া হয়। আমি যেখানেই থাকি স্বাধীন ও তার মায়ের খোঁজখবর নেব।

নাজমুল/এএম/পিআর

আরও পড়ুন