ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মরতে মরতে খুনিদের নাম বললেন সুমন

জেলা প্রতিনিধি | নারায়ণগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৪:১৫ পিএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পাওনা টাকা চাওয়ায় এক ঝুট ব্যবসায়ীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝুট ব্যবসায়ী সুমন মিয়ার (৩৫) মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার রাতে ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর পাকাপুল এলাকায় হাবিব মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তবে মৃত্যুর আগে চার ঘাতকের নাম বলে গেছেন সুমন মিয়া। যারা তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন শনিবার বিকেল পর্যন্ত তাদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

মৃত সুমন মাসদাইর পাকাপুল এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। সুমনের নয় বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে। বর্তমানে তার স্ত্রী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

সুমনের পরিবার জানায়, প্রতিবেশী সোহেল মন্ডল ও বিপ্লবের কাছে ৭০ হাজার টাকা পাওনা ছিল সুমন। কোরবানি ঈদের সময় পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য এক সপ্তাহ সময় চায় বিপ্লব ও সোহেল।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় সুমন। যাওয়ার সময় তার মাকে জানিয়ে যায় পাওনা টাকা আনতে বিপ্লবের কাছে যাচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পরই পরিবার জানতে পারে সুমনের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে কে বা কারা।

সেখান থেকে সুমনকে উদ্ধার করে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা সুমনের জবানবন্দির একটি ভিডিও ফুটেজ নেয়। এ সময় সুমনকে জিজ্ঞেস করা হয় কারা তার শরীরে আগুন দিয়েছে।

তখন ছোট ভাইয়ের প্রশ্নের জবাবে সুমন বলেন, ‘বিপ্লব, শায়লা, সোহেল মন্ডল, খানকা মেড়ের হোটেল মাসুদ। শরীরে কি দিয়েছে বোন রিতার এমন প্রশ্নে সুমন বলেন, ‘এসিড দিসে মনে হয়।’

পরে খানপুর হাসপাতাল থেকে সুমনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শনিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুমনের মৃত্যু হয়।

সুমনের বোন রীতা বলেন, মরতে মরতে ঘাতকদের নাম বলে গেছেন সুমন। সুমনের দেয়া বর্ণনামতে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত চারজন। তারা হলেন- বিপ্লব, তার স্ত্রী শায়লা, সুমন মন্ডল ও হোটেল মাসুদ। সুমন তার পাওনা টাকা আনতে গেলে শায়লা, মাসুদ ও সুমন তাকে আটকে ফেলে এবং বিপ্লব সুমনের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়। ঘটনার পর থেকেই এই চারজন পলাতক রয়েছেন।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। মামলাও হয়নি। তবে বিষয়টি আমরা শুনেছি।

এএম/জেআইএম

আরও পড়ুন