নারায়ণগঞ্জে নিহত অডিট কর্মকর্তাকে মারধর করতেন স্ত্রী
নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলায় অবসরপ্রাপ্ত অডিট কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন মোল্লাকে (৬৫) খুনের ঘটনায় তার স্ত্রী বিলকিস বেগম ও ছেলে বিল্লাল হোসেন শাকিলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রোববার বিকেলে নিহতের ভাই আনোয়ার হোসেন মিন্টু বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মামুনুল আবেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার অপর আসামি নিহতের মেয়ে নিপা পলাতক রয়েছেন।
শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় ৯৩/১ দক্ষিণ জামতলার সোহাগের বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে ফতুল্লা থানা পুলিশ শাহাদাত হোসেন মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করে।
জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের আশুরান এলাকার সামছুল হক মোল্লার ছেলে শাহাদাত হোসেন মোল্লা শহরের জামতলা ধোপাপট্টি এলাকার সোহাগ মিয়ার বাড়ির তৃতীয় তলার পশ্চিম দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তিনি এজিবি’র সিনিয়র অডিট কর্মকর্তা ছিলেন। ৫ বছর পূর্বে শাহাদাত অবসর গ্রহণ করেন। তার স্ত্রীর নাম বিলকিস বেগম। তাদের সংসারে শারমিন জাহান নিপা ও লুনা নামের দুই মেয়ে ও শাকিল মোল্লা নামে এক ছেলে রয়েছে।
নিহতের মামাতো ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নিহত শাহাদাতের মাসদাইর এলাকায় বাড়ি ছিল। এর আগে তার স্ত্রী বিলকিস বেগম স্বামী শাহাদাতকে মারধর করে বাড়ি ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। সোনালী ব্যাংকের সঞ্চয় ব্যুরোতে স্ত্রীর সঙ্গে যৌথ নামে ২০ লাখ টাকা ছিল তার। সেই টাকা নেয়ার জন্য বিলকিস প্রায় সময়ই শাহাদাতকে মারধর করতেন। এই বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিচার-শালিসও হয়েছে। ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর শাহাদাত স্ত্রী বিলকিসের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি জিডিও দায়ের করেছিলেন। ওই ২০ লাখ টাকার জন্য শাহাদাতকে তার স্ত্রী বিলকিস হত্যা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে স্ত্রী বিলকিস বেগম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি জানান, তার স্বামী শহরের মাসদাইর এলাকায় একটি বিয়ে করেছেন। সেখানেই তিনি গত ৭/৮ মাস বসবাস করেছেন। তিনি শাহাদাতকে হত্যা করেননি বলে দাবি করেন।
ছেলে শাকিল মোল্লা জানান, তার বাবা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। তিনি প্রায়ই কাউকে কিছু না বলে ঘর থেকে বের হয়ে যেতেন। এর আগে তারা একবার ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করেছিলেন। যদিও তাৎক্ষণিক উপস্থিত ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশকে জিডি নম্বর বলতে পারেনি শাকিল।
তিনি আরও জানান, দুই দিন আগে তার বাবা কাউকে কিছু না বলে ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে তাকে লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই সময় তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তারা ধারণা করেছিলেন তার বাবা কোনো ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলেন। পরে চিকিৎসককে দেখিয়ে কিছুটা সুস্থ হলে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু তার বাবা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত থাকায় কিছু খেতে না পারায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। শাকিলের দাবি অসুস্থতার কারণেই তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের ভাগ্নে জামিল হোসেন বলেন, ১ বছর আগে তার মামি বিলকিস বেগম, দুই মেয়ে ও ছেলে মিলে মামা শাহাদাতকে পিটিয়ে চাকরি জীবনের প্রায় ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং মামাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। প্রায় ৭/৮ মাস মামা বাড়ির বাইরে বসবাস করেন। গত ২ মাস আগে আত্মীয় স্বজনেরা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। তার সোনালী ব্যাংকে ২০ লাখ টাকা রয়েছে। এ টাকাটাও হাতিয়ে নিতে তাকে গত ২ মাসে কয়েক দফায় মারধর করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার মামাকে তার পরিবারই এ ২০ লাখ টাকার জন্য পিটিয়ে হত্যা করেছে।
নিহত শাহাদাতের ছোট মেয়ে নিপার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বড় মেয়ে, ছেলে ও স্ত্রী টাকার জন্য প্রায়ই তার শ্বশুর শাহাদাতকে মারধর করতেন। সম্প্রতি তার শ্বশুর একটি বাড়ি বিক্রি করে ১ কোটি ২০ লাখ টাকায়। সে টাকাটি কোথায় কীভাবে আছে তা তিনি জানেন না।
আরএআর/পিআর
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য ভৈরবে চাকরি মেলা
- ২ দেশের মানুষ ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতায় দেখতে চায়: জামায়াত আমির
- ৩ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে আমরণ অনশনের হুমকি প্রার্থীর
- ৪ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে রাজনীতি থেকে সন্ত্রাস-দুর্নীতি বিদায় করা হবে
- ৫ মানুষ যত কেন্দ্রে যাবে, ভোটের মর্যাদা তত বাড়বে: জি কে গউছ