সাতক্ষীরার সাবেক ডিসির কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল
সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন, আশাশুনির সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেয়া আদালতের তিন মাসের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেছেন বিবাদীরা।
বুধবার দুপুরে শুনানি শেষে জেলা জজ আদালতের বিচারক সাদিকুল ইসলাম তরফদার আপিল মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায় ও নিম্ন আদালতের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিবাদী পক্ষের মামলাটি শুনানি করেন অ্যাডভোটেক শেখ সিরাজুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি শেখ তামিম আহম্মেদ সোহাগ।
জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু সফিয়ান জাগো নিউজকে জানান, আপিল মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগের রায় ও আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতের আদেশ অমান্য করায় সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দিন, আশাশুনির সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুষমা সুলতানা ও আশাশুনি সদরের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কামাল হোসেনকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেন আশাশুনি আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ সাবরিনা চৌধুরী।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত বিবাদী আশাশুনি সদর উপজেলার সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কামাল হোসেন রায়ের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে এক মাসের মধ্যে আপিলের শর্তে রায়ের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
এ বিষয়ে আশাশুনি সদর উপজেলার সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কামাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আশাশুনি সদর ভূমি অফিসে প্রাচীর দেয়ার সময় স্থানীয় ননি বালা হালদার বাধা দেয়। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্তে টেন্ডারের মাধ্যমে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। ওই সময় ননি বালা আদালতে প্রাচীর নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করেন। কিন্তু প্রাচীর নির্মাণ শেষ হওয়ার এক মাস পর আদালত প্রাচীর নির্মাণে নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। ওই আদেশ পেয়ে ননি বালা হালদার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে মর্মে আদালতে ফের মিস কেস করে। সেই মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার দায় আনা হয়েছে আমাদের ওপর।
এ মামলা ও আদালাতের সংক্রান্ত বিষয়ে সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন বলেন, মামলাটির বিষয়ে আমি আগে থেকে অবগত ছিলাম না। এছাড়া আমাকে কখনো নোটিশও করা হয়নি। তিন মাস কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা হওয়ার পর বিষয়টি জেনেছি। পরবর্তীতে মামলাটি আইনগতভাবেই মোকাবেলা করছি।
আকরামুল ইসলাম/এএম/এমএস