ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সরে দাঁড়ালেন বাদল, কপাল খুলল মামুন-জিকরুলের

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৮

একদাশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসন থেকে ভোটের লড়াই থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়জুর রহমান বাদল।

দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত আর সেটি জমা দেননি। শারীরিক কিছু সমস্যা থাকায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।

ফলে এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের দুই শরিক দল জাতীয় পার্টির (জাপা) একক প্রার্থী কাজী মামুনুর রশীদ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ ইনু) একক প্রার্থী শাহ্ জিকরুল আহমেদ খোকনের কপাল খুলতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এদের মধ্যে জিকরুলকে গত ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি ওই আসনে চারবার নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী কাজী আনোয়র হোসেনকে পরাজিত করেন।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফের তাকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হলেও সেটি প্রত্যাহার করে ফয়জুর রহমান বাদলকে সমর্থন দেন।

যদিও এ আসন থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ২৩ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের দাবি, এদের মধ্যে যারা মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন তাদের মধ্যে থেকেই যেন দলের মনোনয়ন দেয়া হয়। নবীনগরে জাপার প্রার্থী কাজী মামুনুর রশীদ ও জাসদের প্রার্থী শাহ্ জিকরুল আহমেদ খোকনের কোনো ভিত্তি নেই বলেও দাবি করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই নবীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দলের একটি বিশেষ সভায় নিজেকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ঘোষণা করে মহাজোটের শরিক দলের কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে রক্তের গঙ্গা বইয়ে দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বর্তমান সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল।

তবে ২৬ জুলাই নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পাশে জাসদের এক জনসভায় দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু তার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য শাহ্ জিকরুল আহমেদ খোকনকে একক প্রার্থী ঘোষণা করেন।

সর্বশেষ ২৮ অক্টোবর একই মাঠে জনসভা করে নিজের উপদেষ্টা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাপার সদস্য সচিব কাজী মামুনর রশীদকে একক প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেন পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। এ আসনটি এক সময় জাপার ছিল দাবি করে মামুনকে আসনটি পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেন সাবেক এ সামরিক শাসক।

বাদলের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টিকে নিজেদের শরিক দলের জন্য আওয়ামী লীগ আসনটি ছেড়ে দিয়েছে বলে এলাকায় জোর গুঞ্জন ওঠেছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই গুঞ্জন সত্যি হলে কপাল খুলবে কাজী মামুন ও জিকরুলের।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদলের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এমপি বাদলের তিনটি নম্বরই বন্ধ জানিয়ে তার একান্ত সচিব জালাল উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচনটা উনি কন্টিনিউ করবেন না বলেই হয়তো চিন্তা করছেন। চারদিন ধরে ব্যবসায়িক পার্টনারদের নিয়ে উনি কক্সবাজারে আছেন। তাদের সবার মোবাইল বন্ধ রয়েছে। তাই আমরা উনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মানুষকে ম্যাসেজ দিয়েছেন কেউ যেন তার নামে মনোনয়ন জমা না দেন। একটা ফরম আমরা কিনেছিলাম উনার জন্য। কিন্তু উনি কিছুতেই সেটা অ্যালাউ করছেন না। মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরলেও হয়তো সন্ধ্যার পরে মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার সময়টা পার করে ফিরবেন।

এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ হালিম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের সহকর্মীরা চাচ্ছিল বলে উনার (বাদল) নামে ফরম নিয়ে আসা হয়েছিল। উনার আসলে শারীরিক কিছু সমস্যা আছে। সেজন্য বলেছেন, লোডটা নিতে চাই না, আই লাইক টু রেস্ট। সর্বশেষ যখন আমার সঙ্গে কথা হয়েছে তখনও উনি বলেছেন, শরীরটা অ্যালাউ করছে না, আমি যেতে চাচ্ছি না। তিনি আরও বলেছেন, আমাদের শুধুমাত্র একজন সরে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু আমাদের আরও অনেক প্রার্থী আছেন। আমরা আওয়ামী লীগের যেকোনো প্রার্থীকে চাইব এবং শেষ চেষ্টা করব।

আজিজুল সঞ্চয়/এএম/এমএস

আরও পড়ুন