ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

তরিকত ফেডারেশনের মনোনয়ন নিলেন আ.লীগ নেতা

জেলা প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর | প্রকাশিত: ০৬:২০ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে নিজ দলের পর এবার তরিকত ফোডারেশন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান।

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে তরিকত ফেডারেশনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি। এর আগে গত ১১ নভেম্বর একই আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দেন আনোয়ার হোসেন।

সোমবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল তরিকত ফেডারেশন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আনোয়ার হোসেন রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ঢাকার ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের মালিক।

এদিকে, আনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ার পাশাপাশি তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় নিজেদের মতো করে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১১ নভেম্বর ঢাকার ধানমন্ডি কার্যালয় থেকে আনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নেন। এরপর থেকে দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। দলের ইতিবাচক মনোনভাব না দেখে তিনি জোট ইস্যুতে তরিকতে ভিড়েছেন। এ জন্য রোববার তরিকত ফেডারেশন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দেন। তরিকত ফেডারেশন থেকে মনোনয়ন নেয়ার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

দুই দল থেকে মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন খান বলেন, আমি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাচ্ছি। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে তরিকত থেকে ফরম নিতে বলেছেন। তরিকতের এমপির বিরুদ্ধে বদনাম রয়েছে। এ কারণে আমি তরিকতের ফরম নিয়েছি, তবে তাদের দলে যোগদান করিনি।

রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিক মাহমুদ পিন্টু বলেন, আনোয়ার হোসেন খান জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তিনি নতুন করে তরিকত থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন। এটি আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী। দলের আদর্শ বিরোধী এমন কাজ নিন্দনীয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। কেন্দ্রীয় নেতারা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা তা বাস্তবায়ন করবো।

দলীয় সূত্র জানায়, এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জামা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হক মিলন, রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিক মাহমুদ পিন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান, সহ-সভাপতি শামছুল ইসলাম মিজান, সদস্য মাইন উদ্দিন মাইনু, রামগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটোয়ারী, রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ ক ম রুহুল আমিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনির চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এম এ মমিন পাটোয়ারী, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য দেওয়ান সুলতান আহমেদ ও জেলা যুবলীগের সদস্য মাহাবুব আলম।

প্রসঙ্গত, দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা কমিটির তখনকার সভাপতি মো. শাহজাহানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। পরে জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে শাহজাহান তা ছেড়ে দেন। এতে নির্বাচনে তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়ালকে এমপি নির্বাচিত হয়।

গত বছরের ১৮ এপ্রিল নাটকীয়ভাবে দলের পদবি থেকে এমএ আউয়ালকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তখন থেকে আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন খানের সঙ্গে তরিকতের শীর্ষ নেতাদের যোগাযোগ শক্ত হয়।

কাজল কায়েস/এএম/এমএস

আরও পড়ুন