ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কমলনগরে নদীর তীররক্ষা বাঁধে ধস

জেলা প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর | প্রকাশিত: ০৬:২৪ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৮

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীর তীররক্ষা বাঁধে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে বাঁধে ধস দেখা দেয়ায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ১০০ মিটারে ধসে গেছে। এর আগে রোববার রাত থেকে ধস দেখা দেয়। গত দেড় বছরে ওই বাঁধে অন্তত ৮ বার ধসের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হওয়ায় বাঁধের দুই পাশের এলাকায় অব্যাহতভাবে ভাঙছে। আশপাশের এলাকায় ভাঙনের কারণে বাঁধ ধসে পড়েছে। অনিয়মের মধ্য দিয়ে নিম্নমানের কাজ করায় বারবার বাঁধে ধস নামছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কমলনগর রক্ষায় আরও ৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রকল্প ইনচার্জ মো. আফছার বলেন, নির্মাণাধীন বাঁধের অদূরে চর জেগে উঠেছে। যে কারণে পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। তীব্র জোয়ারের কারণে উত্তর পাশের ৩০ মিটার বাঁধে ধস নামে। ধস ঠেকাতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মূসা বলেন, পানি কমতে শুরু করায় নদীর ভাঙন বেড়েছে। এর প্রভাব তীর বাঁধেও পড়েছে। বাঁধ ধসের পরপরই সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর কুমিল্লা অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী বাবুল চন্দ্র শীল এসে পরিদর্শন করেছেন। এখানে ভাঙন প্রতিরোধে এক কিলোমিটার বাঁধ যথেষ্ট নয়। আরও সাড়ে ১৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে এটি অনুমোদন হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

Lakshmipur

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে মেঘনা নদীর তীররক্ষা বাঁধের জন্য ১৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দকৃত টাকায় কমলনগরে এক কিলোমিটার, রামগতির আলেকজান্ডারে সাড়ে তিন কিলোমিটার ও রামগতিরহাট মাছ ঘাট এলাকায় এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ হওয়ার কথা।

২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন আলেকজান্ডার এলাকায় ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে সাড়ে তিন কিলোমিটার সফলভাবে বাস্তবায়ন করে।

ওই বরাদ্দের ৪৮ কোটি টাকায় কমলনগরে এক কিলোমিটার কাজ পায় নারায়নগঞ্জ ডকইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। অর্থ বরাদ্দের দুই বছর পর ২০১৬ সালের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটি ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংকে দিয়ে কাজ শুরু করে।

ওই বছর নিম্নমানের বালু ও জিওব্যাগ দিয়ে কাজ শুরু করায় স্থানীয়দের চাপের মুখে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অনিয়মের প্রতিবাদে ও যথাযথভাবে কাজ করার দাবিতে মানববন্ধন করেছিল এলাকাবাসী।

কাজল কায়েস/এএম/এমএস

আরও পড়ুন