রাসেলের নগদ টাকা বেড়েছে ৮১ গুণ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল।
২০০৪ সালে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আহসান উল্লাহ মাস্টার। ওই বছরই উপ-নির্বাচনে জাহিদ আহসান রাসেল বাবার আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালেও এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
চারটি নির্বাচনে তার দেয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০০৪ সালে জাহিদ আহসান রাসেল পেশায় ছিলেন ছাত্র/ব্যবসায়ী। তখন ব্যবসা থেকে তার আয় ছিল ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, নগদ অর্থ ছিল ১৫ হাজার টাকা, স্বর্ণ ছিল ১০ ভরি। তার বার্ষিক আয় ছিল ৪ লাখ ৩৭ হাজার ২৭৯ টাকা। তার ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র, একটি ২ কোটি ১০ লাখ ৫ হাজার ৪৯০ টাকা দামের গাড়ি ও একটি শটগান এবং রিভলবার ছিল। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সুদমুক্ত ঋণ নিয়েছিলেন দুই কোটি এক লাখ টাকার।
২০০৯ সালে জাহিদ আহসান রাসেল পেশায় ছিলেন ব্যবসায়ী। তখন ব্যবসা থেকে আয় ছিল ৬ লাখ টাকা, নির্ভরশীলদের মধ্যে স্ত্রীর নামে আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ব্যবসার মূলধন ছিল ১৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা। তিনি এমপি হিসেবে ভাতা পেয়েছেন ১০ লাখ ৫৭ হাজার ৭০০ টাকা, এমপি হিসেবে পারিতোষিক পেয়েছেন ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তার স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ অর্থ ছিল ৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৩৩ টাকা, ব্যাংকে জমা ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ৭২৯ টাকা। শেয়ার রয়েছে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৬৪ টাকার। নিজের নামে স্বর্ণ ছিল ৫০৮ ভরি, স্ত্রীর নামে ছিল ৩৬২ ভরি।
তার বিয়ের সময় উপহার হিসেবে ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ১৭ লাখ টাকার আসবাবপত্র, ২ কোটি ১০ লাখ ৫ হাজার ৪৯০ টাকা ও ৬৮ লাখ ১২ হাজার ৪৩ টাকা দামের দুটি গাড়ি ছিল তার, একটি শটগান এবং রিভলবার ছিল। তিনি সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত উত্তরা ৩য় প্রকল্পে ৫ কাঠার একটি প্লট কেনার জন্য টাকা জমা দিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সুদমুক্ত ঋণ নিয়েছিলেন দুই কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন ৫ লাখ ৭৪ হাজার ১৯২ টাকা।
জাহিদ আহসান রাসেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের কাছে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন তা পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি ব্যবসা থেকে আয় করেছেন ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ টাকা। নির্ভরশীল স্ত্রীর রয়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা। সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা হিসেবে পেয়েছেন ২২ লাখ ২৯ হাজার ১০০ টাকা। গাড়ি বিক্রি করে মূলধন আয় করেছেন ৮১ লাখ ৮৭ হাজার ৯৫৭ টাকা। তার নগদ টাকা রয়েছে ১২ লাখ ২৪ হাজার ৫০৫ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫০ টাকা। ব্যাংকে জমা রয়েছে ১৪ লাখ ৬২ জাহার ৪৩২ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৮ হাজার ৭৯০ টাকা। তার শেয়ার রয়েছে ৫ লাখ ৬০ হাজার ৫৭০ টাকা। তার ২ কোটি এক লাখ ৫৪৯০ টাকা ও ৬৯ লাখ ৬১ হাজার ৫২৮ টাকা মূল্যের দুটি গাড়ি রয়েছে। তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে একটি শটগান ও একটি রিভলবারের মালিক। পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত একটি তিনতলা বাড়ির ৫ ভাগের দুই অংশ এবং সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত উত্তরা ৩য় প্রকল্পে ৫ কাঠার একটি প্লট কেনার জন্য ২৩ লাখ ১৯ হাজার ২৩৩ টাকা জমা দেয়ার কথা মনোনয়নপত্রের হলফনামায় তথ্য দিয়েছেন। তার স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে বিয়ের সময় উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ১৬৬ ভরি নিজ নামে ১৬৮ ভরি স্বর্ণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি সুদমুক্ত ১০ লাখ টাকার ঋণ গ্রহণ করেছেন।
আমিনুল/এএম/এমএস