ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

হাজতে থেকেও ‘বন্দুকযুদ্ধের’ মামলার আসামি

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০৯:০৭ এএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের হাজমপাড়া গ্রামের ছৈয়দুল ইসলাম (২৪), পুরানপাড়া গ্রামের জসিম উদ্দিন (৪০) ও একই গ্রামের সামশুল আলম (২০)। এদের মধ্যে ছৈয়দ একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে ৮ মাস ধরে কক্সবাজার জেলা কারাগারে আর বাকি দু’জন একটি ইয়াবা মামলায় প্রায় ৬ মাস যাবৎ চট্টগ্রাম কারাগারে হাজতি হিসেবে বন্দী রয়েছেন। অথচ এ তিন হাজতিকেই গত ১ ডিসেম্বর রাতের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার ৩টি পৃথক মামলায় আসামি করেছে পুলিশ। এ নিয়ে জেলাজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

পুলিশ, আদালত ও কারাগার সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল টেকনাফের বাহারছড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজমপাড়ায় ময়না খাতুন নামে এক নারী নিহত হন। সেই ঘটনায় ১০ এপ্রিল ছৈয়দুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে নিহতের ভাই আবদুল মান্নান। ১৮১/১৮ নম্বর এ মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে ১১ এপ্রিল থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন। কক্সবাজার কারাগার তত্ত্বাবধায়ক বজলুর রশীদ আখন্দ বিষয়টি নিশ্চিতও করেছেন।

এদিকে কারাবন্দী জসিম উদ্দিনের স্ত্রী শারমিন আকতার বলেন, ৬ মাস আগে ইয়াবাসহ আটক হয়ে তার স্বামী জসিম ও প্রতিবেশী সামশু চট্টগ্রাম কারাগারে এখনও বন্দী রয়েছেন।

কিন্তু গত ১ ডিসেম্বর রাতে টেকনাফের শামলাপুর মেরিন ড্রাইভ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান ওই এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে হাবিব উল্লাহ। এ ঘটনায় ছৈয়দুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, শামসুল আলমসহ এজাহারে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী টেকনাফ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই ) মো. রাজু আহমেদ বলেন, হাবিব নিহতের ঘটনায় আমি বাদী হয়ে জিআর-৭৫৮/১৮, জিআর-৭৫৯/১৮ ও জিআর-৭৬০/১৮ নম্বর মামলা ৩ টি টেকনাফ থানায় দায়ের করেছি। এতে ২৩ জন আসামির নাম উল্লেখ করা রয়েছে।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, এলাকাবাসীর তথ্য, পুলিশের নিজস্ব সোর্স ও বন্দুকযুদ্ধে নিহত হাবিবের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ছৈয়দুল ইসলাম একজন ইয়াবা কারবারি। তাই তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

উল্টো তিনি এ কথাও বলেন, ‘একজন ইয়াবা কারবারির জন্য সাংবাদিকদের এত মায়াকান্না কেন সেটি আমার বোধগম্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে নাম থাকা মানে সে দোষী তেমন কিন্তু নয়। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় ঘটনার সময় ছৈয়দ কারাগারে ছিল তবে তাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হবে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, অনেক সময় আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলায় আসামি দেয়া হয়। যদি আসামির দেয়া তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেয়া হয়ে থাকে।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/জেআইএম

আরও পড়ুন