ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভোলায় আগামী দু’মাস মাছ ধরা বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি | ভোলা | প্রকাশিত: ১০:২৯ এএম, ০১ মার্চ ২০১৯

ভোলার পূর্বপাশে ইলিশা থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনা পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এবং পশ্চিম পাশে কালাবদরের মোহনা থেকে চরপিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার তেতুলিয়া নদী এলাকা মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ কারণে আগামী ২ মাসের জন্য এ এলাকায় সব ধরনের মাছ শিকারের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। আজ শুক্রবার ১ মার্চ মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে এ নিষেধাজ্ঞা। চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন এ এলাকায় মাছ পরিবহন, বাজারজাত ও মজুদেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ আইন অমান্যকারী জেলেদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ভোলর সদরের রাজাপুর ও ইলিশা ইউনিয়নের মেঘনা নদী ও মৎস্য ঘাটগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক জেলেই দল বেঁধে নৌকা ও ট্রলার নদীর পাড়ে উঠিয়ে নিচ্ছেন। আবার অনেকে নৌকা ঘাটের এক পাশে বেঁধে জাল গুছিয়ে বস্তায় ভরে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।

Bhola-Fishing-Ban

রাজাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৎস ঘাটের জেলে আজগর আলী মাঝি বলেন, ‘সরকার ২ মাস অভিযান দিয়েছে। আমরা অভিযান মানার জন্য নৌকা ও জাল গুছিয়ে ফেলছি। কাল থেকে ২ মাসের জন্য আর নদীতে মাছ ধরতে যাব না।’

একই এলাকার মো. মহিউদ্দিন মাঝি বলেন, ‘আগামী ২ মাসের জন্য সরকার অভিযান দিছে, আমরা ঠিকমত মানব। কিন্তু সরকার অভিযানের সময় জেলেদের জন্য যে চাল দেয় সেটা যাতে তাড়াতাড়ি দেয় সেজন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’

ইলিশা জংশন এলাকার জেলে মো. নকীব মাঝি বলেন, প্রতিবার এ নিষেধাজ্ঞার সময় আমাদের নামে বরাদ্দকৃত ৪০ কেজি চাল ঠিকমত পাই না। অনেক সময় ২০ কেজি বা ৩০ কেজি পাই। এবার যাতে পুরো ৪০ কেজি পাই সেজন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এছাড়া যেসব জেলে আইন মানবে না তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

Bhola-Fishing-Ban

ভোলা ইলিশা নৌ থানা পুলিশের ওসি সুজন চন্দ্র পাল বলেন, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে আমাদের নৌ পুলিশ সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করছে। তবে আমদের জনবল ও জলযান না থাকার কারণে কঠোর ও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে পারব না। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানান।

ভোলা সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়গুলোতে জেলেরা যাতে নদীতে গিয়ে মাছ শিকার না করে সেজন্য মৎস্য বিভাগ থেকে জেলেদের ব্যাপক সচেতন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি মৎস্য ঘাটে মাইকিং ও নিষেধাজ্ঞা অমান্যকরীর শাস্তির বিষয়টিও জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অভিযানের সময় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জুয়েল সাহা বিকাশ/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন