রাজনীতি করতে এসেছি ধান্দা করতে নয় : শামীম ওসমান
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, সাধারণ মানুষ শান্তিতে বাঁচতে চায়। সাধারণ মানুষ মাদক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যু ও ইভটিজিংয়ের হাত থেকে বাঁচতে চায়। তাই আমাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মানুষকে শান্তি দিতে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। আমার বামে ডানে থেকে যদি আওয়ামী লীগের লোকজন মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতা করে তাদের মাথায় আমার হাতটা থাকবে না। আমি রাজনীতি করতে এসেছি, ধান্দা করতে আসি নাই। দিনের বেলায় আওয়ামী লীগ আর রাতে বিএনপি এমন রাজনীতি তো আমরা করতে চাই না।
শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নং রেল গেট সংলগ্ন মিড টাউন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামীম ওসমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর সেপ্টেম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার চেয়ে নারায়ণগঞ্জে আমিই প্রথম পোস্টার লাগিয়েছিলাম। ওই সময় আমাদের শিক্ষক বলেছিলেন ওই ছেলেরা তোমরা কি করছো। তখন আমি বলেছিলাম বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের দাবিতে পোস্টার লাগাচ্ছি। তখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি। তখন আমরা সাইকেল চালাতাম। ওই সময়ে আমাকে খানপুর হাসপাতালের সামনে রেখে পিঠে সাইকেল ভেঙে দেয়। তখনই বুঝেছিলাম এই পথ সহজ না। ক্ষমতায় থাকলে অনেকে অনেক কথা বলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে আমি ও আমরা ঋণী। আমি কখনো নেতা হই নাই, হতেও চাই না। আমি জনগণের আছি এবং ভবিষ্যতেও জনগণের থাকব। আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। শুধু আওয়ামী লীগ না বরং স্বাধীনতার পক্ষের সকল শক্তিকে নিয়ে কাজ করতে হবে।
শামীম ওসমান বলেন, ক্লাস থ্রি থেকে ফোরে ওঠার সময়েই আমার রাজনীতির হাতেখড়ি। তখন আমার বাবা একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারায় আমি শহরের গুলশান হলের সামনে এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বক্তব্য রেখেছিলাম। সেদিন বলেছিলাম, ইয়াহিয়া যত পারো গুলি করো। তবুও আমরা দেশকে স্বাধীন করে ছাড়ব।
তিনি আরও বলেন, শহরের সমাবেশের কারণে অনেকের কষ্ট হয়েছে। কিন্তু তাদের কষ্ট হয় না যারা আওয়ামী লীগ করে, যারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। কারণ এ রাজপথেই আওয়ামী লীগের জন্ম। সে কারণেই রাজপথেই আওয়ামী লীগের সমাবেশ হবে। তার পরেও আমি সবার কাছে ক্ষমা চাই সমাবেশের কারণে কষ্টের জন্য।
সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ মোহাম্মদ বাদল, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু চন্দনশীল, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, যুগ্ম সাধারণ সস্পাদক শাহ নিজাম, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রফেসর শিরিন আক্তার, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান, কাউন্সিলর সজল, মতিউর রহমান, ওমর ফারুক, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল, ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটন, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শাহাদাত/আরএআর/এমএস