ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এনটিআরসিএ নিয়োগপত্র দেয়ার পরও ঘুষ নেন প্রধান শিক্ষক

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ০৭:১৬ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বেগুন জোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির কাছে অভিযোগপত্র দিয়েছেন একই বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত এক সহকারী শিক্ষক।

১৬ এপ্রিল (মঙ্গলবার) ডাকযোগে অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক রিপন কুমার। পাশাপাশি নওগাঁ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে অনুলিপি দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বিশ্বনাথের ছেলে রিপন কুমার ২৪ জানুয়ারি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে সুপারিশ নিয়ে বদলগাছী উপজেলার বেগুন জোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের শূন্যপদে কৃষি সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানের জন্য যান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত শামীম আহমেদ নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক রিপন কুমারকে ওই পদে নিয়োগ না দিয়ে হয়রানি শুরু করেন। একপর্যায় রিপন কুমার বিষয়টি নিয়ে মৌখিকভাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় এমপিকে জানান। এতে প্রধান শিক্ষক রিপনকে নিয়োগ দিতে স্বীকৃতি জানালেও মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। দরিদ্র ঘরের সন্তান রিপন কুমার ধার-দেনা করে ৩০ হাজার টাকা প্রধান শিক্ষককে দেন।

২১ ফেব্রুয়ারি কৃষি শিক্ষক হিসেবে ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন রিপন। যোগদানের পর থেকে তিনি নিয়মিত স্কুলে পাঠদান করছেন। এমপিওভুক্তির জন্য বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণের কথা থাকলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি।

এদিকে, যোগদানের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমপিওভুক্তির জন্য ভুক্তভোগী শিক্ষকের কোনো কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়নি। অবশেষে রিপন কুমার নিজে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন ওই বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষক মাহবুব-উল-ইসলাম আলমগীর ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু তার এমপিও বাতিল না করেই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কৃষি শিক্ষক পদটি শূন্য দেখিয়েছেন।

Naogaon-Bodolgac-(2)

ভুক্তভোগী শিক্ষক রিপন কুমার বলেন, মৃত মাহবুব-উল-ইসলাম আলমগীরের এমপিও বাতিল ও তার নাম কর্তন এবং ওই পদে আমাকে এমপিওভুক্তি করার প্রয়োজনীয় বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে জানানো হয়। কিন্তু তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময় অতিবাহিত করেছেন। ১০ এপ্রিল আগের শিক্ষকের নাম কর্তনের আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর শেষ দিন ছিল। ইচ্ছা করেই প্রধান শিক্ষক সময় অতিবাহিত করেছেন। আগের শিক্ষকের নাম কর্তনের আবেদন করতে পারলে আগামী ১০ জুনের মধ্যে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারতাম। প্রধান শিক্ষকের অবহেলা ও অসযোগিতার কারণে আরও আট মাস বিনা বেতনে আমাকে পাঠদান করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত শামীম আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়াশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের কৃষি সহকারী শিক্ষক পদটি শূন্য করতে প্রধান শিক্ষককে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। যেহেতু ২০১২ সালে ওই পদের শিক্ষক মারা গেছেন সেহেতু তার এমপিও বাতিল কেন করা হয়নি এ মর্মে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম আলী বেগ বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আব্বাস আলী/এএম/এমকেএইচ

আরও পড়ুন