ধোঁয়ায় ১৬ একর জমির ধান নষ্ট, ইটভাটা সরানোর নির্দেশ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের এএনবি-২ ইটভাটা আগামী তিনমাসের মধ্যে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমাবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও মির্জাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাইনুল হক এ নির্দেশ দেন।
এছাড়া আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীন ইটভাটা স্থাপনের অপরাধে ভাটা মালিকের কাছ থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মির্জাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মইনুল হকের নেতৃত্বে টাঙ্গাইল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন ও টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদফতরের একটি দল যৌথভাবে এ অভিযান চালান।
এ সময় দুর্নীতি দমন কমিশন টাঙ্গাইল জেলার উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, কোর্ট পরিদর্শক মো. বুলু মিয়া, এসি মো. সিরাজুল হক, টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মুহাম্মেদ মুজাহিদুল ইসলাম ও পরিদর্শক সজীব কুমার ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া পূর্বপাড়া এলাকার এএনবি-২ ইটভাটার চিমনি থেকে বের হওয়া ধোঁয়ায় ভাটার আশপাশের প্রায় ১৬ একর জমির ধান নষ্ট হয়। এছাড়া ভাটা সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন প্রজাতির ফল গাছের ফল নষ্ট হয়ে ঝরে পড়ে যায়। এ নিয়ে ১৪ মে জাগোনিউজ২৪.কম-এ ‘ইটভাটার ধোঁয়ায় ১৬ একর জমির ধান নষ্ট, কৃষকের মাথায় হাত’ শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রশাসনের নজরে আসে।
সোমবার মির্জাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাইনুল হকের নেতৃত্বে টাঙ্গাইল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন ও টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদফতরের একটি দল যৌথভাবে জাগোনিউজে প্রকাশিত সংবাদের প্রিন্ট কপি নিয়ে অভিযান চালায়।
জানা যায়, উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম ও তার আত্মীয় গাজীপুরের কড্ডা এলাকার রেজাউল করিম বহুরিয়া গ্রামের পূর্বপাড়ায় প্রায় ১০/১২ একর আবাদি জমির ওপর এএনবি-২ নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করেন। ভাটার তিন দিকে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি ও একপাশ নদীঘেঁষা। ভাটার মালিক সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদন ছাড়াই ইট তৈরি করে ব্যবসা করছেন।
এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও মির্জাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মইনূল হক বলেন, অনুমোদন ছাড়াই আবাসিক এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ইটভাটা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ ও এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
এস এম এরশাদ/এএম/এমএস