ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘রুশেমা ইমামের মৃত্যুতে ফরিদপুর আ.লীগ তার মাকে হারাল’

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ১২:০২ এএম, ১১ জুলাই ২০১৯

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেছেন, ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সঙ্গে ইমাম ভাই পরিবার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইমাম ভাই, হাসি আপা ছাড়া ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ কল্পনাও করা যায় না। দলের জন্য ইমাম ভাইয়ের ত্যাগ-তিতিক্ষা ছিল অপরিসীম। তিনি নানা চাপ-প্রলোভন সহ্য করেছেন, কিন্তু কখনও পথভ্রষ্ট হননি।

বুধবার সন্ধ্যায় শহরের হাবেলি গোপালপুর মাস্টার কলোনি সড়কে সংসদ সদস্য রুশেমা ইমামের (হাসি) বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়ে এ কথাগুলো বলেন ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি।

ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ইমাম ভাইয়ের মূলশক্তি ছিল তার স্ত্রী আমাদের এই হাসি আপা। হাসি আপা নানা সমস্যার মধ্যে থেকেও ইমাম ভাইকে জুগিয়েছেন সাহস। দিয়েছিলেন পথচলার প্রেরণা। তার সাহস প্রেরণা-উৎসাহে ইমাম ভাই দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যেতে পেরেছেন। ফলে ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের অবস্থান সুদৃঢ় হয়েছে।

তিনি বলেন, দলের জন্য হাসি আপার ত্যাগ-তিতিক্ষা ছিল অকল্পনীয়। যার ফলশ্রুতিতে দলীয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসি আপাকে ফরিদপুরের সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন। হাসি আপা ফরিদপুরের জনমানুষের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। এই কয়দিন আগেও তিনি সংসদে ফরিদপুরের আদ্যপান্ত ইতিহাস তুলে ধরেছিলেন। ফরিদপুরবাসীর সুখ-দুঃখের কথা বলেছেন, তার স্কুলের কথা বলেছেন। হাসি আপা ছিলেন অত্যন্ত হাসি-খুশি মানুষ। তিনি সকলের খোঁজ-খবর রাখতেন। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতেন। তার মৃত্যুতে আজ ফরিদপুরের আওয়ামী লীগ তাদের মাকে হারাল। এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন এ প্রার্থনা করি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেন মৃধা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবলচন্দ্র সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঝর্ণা হাসান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী বরকত ইবনে সালাম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ইমতিয়াজ হাসান রুবেল, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এ এইচ এম ফোয়াদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য রুশেমা ইমাম মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। বুধবার বাদ আসর ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স মাঠে জানাজা শেষে কমলাপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

নামাজে জানাজায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

রুশেমা ইমাম জাতীয় সংসদের আসন ৩৩৪ ও সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩৪ এর সদস্য ছিলেন। তিনি ছেলে সাইফুল আহাদ সেলিম ও মেয়ে উর্মি ইমামসহ আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণকারী রুশেমা ইমাম নারী শিক্ষা ও মুক্তির লক্ষ্যে আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করেছেন। ফরিদপুর ঈশান ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ১৯৫১ সালে রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করলেও ১৯৬৪ সালে একই কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৬৮ সালে বিএড পাস করেন। ১৯৫৯ সালের ২ আগস্ট তদানীন্তন ফরিদপুর গার্লস জুনিয়র মাদরাসায় প্রধান শিক্ষিকা পদে যোগ দেন। পরবর্তীতে এটি হালিমা গার্লস হাইস্কুল নামকরণ করা হয়। পরবর্তীকালে ঈশান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে তার কর্মজীবন শেষ করেন। তার ডাক নাম ছিল হাসি।

রুশেমা ইমামের স্বামী ইমামউদ্দিন আহমাদ ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দেন। তিনি একজন ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। তিনি ২০০৬ সালে ফরিদপুরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ওই বছর ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রুশেমা ইমামকে মনোনীত করেন। এরপর তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

বি কে সিকদার সজল/বিএ

আরও পড়ুন