বিআরটিএ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, গ্রাহকের টাকা ফেরত

জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৯:৪২ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯
বিআরটিএ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, গ্রাহকের টাকা ফেরত

বাগেরহাট রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার নামে ঘুষ গ্রহণের দায়ে এক দালালকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাদের কার্যালয়ের কর্মচারী মো. মজিবর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

সোমবার দুপুর থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত শহরের পুরাতন কোর্ট চত্ত্বরের বিআরটিএ কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে দুজনকে ঘুষের টাকাসহ আটক করে। পরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম মো. ইসতিয়াক আহম্মেদ দালাল মিঠু মিয়াকে ঘুষ গ্রহণের দায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

অভিযানের পর বাগেরহাট বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক ছাড়া অন্য কোন দালালের প্রবেশ নিষিদ্ধ প্রচারণামূলক ব্যানার টাঙ্গানোর নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। সেই সাথে ঘুষ বন্ধে বিআরটিএ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসানকে সতর্ক করা হয়েছে।দালাল মিঠু বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকার তারা মিয়ার ছেলে।

দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের (বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা) উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, বিআরটিএ এর বাগেরহাট কার্যালয়ের নানা অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে ১০৬ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে দুদক সেখানে অভিযান চালায়। এসময় দালাল মিঠু মিয়া ও বিআরটিএ কার্যালয়ের একটি প্রকল্পের সিল মেকানিক মো. মজিবর রহমানকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করা ঘুষের টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা ঘুষের দশ হাজার টাকা গ্রাহকদের ফেরৎ দেয় দুদক।

অভিযানের পর বাগেরহাট বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক ছাড়া অন্য কোনো দালালের প্রবেশ নিষিদ্ধ প্রচারণামূলক ব্যানার টাঙ্গানোর নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘুষ বন্ধে বিআরটিএ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসানকে সতর্ক করা হয়েছে।

বাগেরহাট কার্যালয়ের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েও গত চার মাসেও ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পাইনি। এ অফিসের লোকজন আজ না কাল দেবে বলে ঘুরাচ্ছে।

জাহিদুর রহমান নামে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, বাগেরহাট বিআরটিএ কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয়না। এ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসানের যোগসাজসে মিঠু নামে স্থানীয় এক দালাল সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির নিববন্ধনের কাগজপত্র করে দিতে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা ঘুষ আদায় করেন।

অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ স্বীকার করে বিআরটিএ’র বাগেরহাট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিআরটিএ কার্যালয়ের একটি প্রকল্পের অস্থায়ী সিল মেকানিক মো. মজিবর রহমানের কাছে সাধারণ গ্রহকদের কাছ থেকে আদায় করা ১০ হাজার টাকা পেয়েছে দুদক। তাই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযানের পর বাগেরহাট বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক ছাড়া অন্য কোনো দালালের প্রবেশ নিষিদ্ধ প্রচারণামূলক ব্যানার টাঙ্গানো হবে। সেই সঙ্গে সব ধরনের ঘুষ বন্ধে এ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসানকে সতর্ক করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে বিআরটিএ কার্যালয় দালাল ও ঘুষ মুক্ত থাকবে বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।

শওকত আলী বাবু/এমএএস/জেআইএম

সর্বশেষ - দেশজুড়ে

জাগো নিউজে সর্বশেষ

জাগো নিউজে জনপ্রিয়