ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মাদারীপুরে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কুন্ডুবাড়ির মেলা

জেলা প্রতিনিধি | মাদারীপুর | প্রকাশিত: ০২:৩৫ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৯

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গোপালপুরের কুন্ডু বাড়িতে বোরবার থেকে শুরু হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী কুন্ডুবাড়ির মেলা। প্রতি বছর কালিপূজা ও দিপাবলী উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এ মেলার। মেলা চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা বাঁশ, বেত ও কাঠের আসবাবপত্র, খেলনা ও প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে এসেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন জেলা থেকে মেলায় এসেছেন হাজারো দর্শনার্থী।

এদিকে মেলা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

southeast

কুন্ডুবাড়ির মেলার উৎপত্তির ইতিহাস দুর্বোধ্য হলেও ধারণা করা হয়, স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কালীপূজা উপলক্ষে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুর গ্রামের কুন্ডুবাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ শতবছরের ঐতিহ্যবাহী কুন্ডুবাড়ির মেলা। সঠিক দিন-তারিখ কেউ না জানলেও ধরে নেয়া হয় আনুমানিক আঠারো শতকের শেষের দিকে কুন্ডুদের পূর্বপুরুষরা ধর্মীয় উৎসব কালীপূজার আয়োজন করে। ক্রমান্বয়ে তাদের পূজাকে ঘিরে প্রথমে বাদাম, বুট, রয়্যাল গুলি, লাঠি লজেন্স, মণ্ডা-মিঠাই ও খেলনা নিয়ে অল্প কয়েকজন ব্যবসায়ী বসতেন। পরে আস্তে আস্তে প্রতি বছর ব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এক সময় এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যসামগ্রী নিয়ে আসতে শুরু করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা এর নামকরণ করেন ‘কুন্ডুবাড়ির মেলা’ নামে। ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থিরতার মধ্যে মেলা অনুষ্ঠিত না হলেও বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ মেলা জমজমাটভাবে হয়ে আসছে।

এখন প্রায় ১০ একর জায়গা নিয়ে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দুই পাশসহ আশপাশের এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান নিয়ে বসেছে। বেঁচা-কেনাও জমজমাট। ক্রেতা-বিক্রতা সবাই খুশি। প্রতি বছরের মতো এবারও মেলায় আসতে পেরে খুশি অনেকেই। ঘুরে ঘুরে বাচ্চাদের জন্য খেলনাসহ কিনছেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

southeast

দুইশত বছরের পুরানো এই মেলায় নেই কোনো চাঁদাবাজি। প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তায় দোকান করতে পেরে খুশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা দোকানিরা। ব্যবসায়ীদের আশা, প্রতিবছরের মতো এবারও লাভবান হতে পারবেন তারা।

মাদারীপুর পুলিশ সুপার মো. মাহাবুব হাসান জানান, প্রতিবারের মতো আমরা এবারও যথারীতি আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছি। পোশাকে এবং সাদা পোশাকে দুই ভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া একটি কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এ কে এম নাসিরুল হক/এমবিআর/এমএস