ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভবন নির্মাণে ব্যবহার করার কথা স্টিল, করা হচ্ছে বাঁশ ও কাঠ

জেলা প্রতিনিধি | পটুয়াখালী | প্রকাশিত: ০৪:১৬ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৯

পটুয়াখালীর দশমিনায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টি.টি.সি) ভবন নির্মাণকাজে চুক্তির ব্যত্যয় ঘটিয়ে স্টিলের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠের সাটারিং (কংক্রিটের ঢালাই এ ব্যবহৃত অস্থায়ী কাঠামো) ব্যবহার করা হচ্ছে। একই অভিযোগ রয়েছে দেশের ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভবন নির্মাণকাজে।

বৈদেশিক শ্রমবাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা, দক্ষ জনশক্তি সরবরাহের মাধ্যমে শিল্প খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং সারাদেশে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুযোগ ও কাজের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে মেসার্স আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন, এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড, মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্স ও জেভি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বাস্তবায়নে চুক্তি করে। ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টি.টি.সি) দশমিনা পটুয়াখালী ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন।

প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা পাইল ভিতের ওপর পাঁচতলা একাডেমিক ভবন, তিন তলা ডরমেটরি ভবন, চার তলা ভবন (প্রিন্সিপাল ভাইস প্রিন্সিপাল অনারি পরিদর্শকদের জন্য ডরমেটরি) পাম্প হাউজ, সাব-স্টেশন, গ্যারেজ, ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণাগার, ডিপ টিউবওয়েল, কম্পাউন্ডার ড্রেন, বাউন্ডারি ওয়াল, অ্যাপ্রোচ রোড, গার্ড শেড ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্প ব্যয় ২১ কোটি ৬৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩৩ টাকা ৪৫ পয়সা।

Patuakhali

প্রকল্প এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ৩০ জন শ্রমিক ভিন্ন কাজ করছে। প্রকল্প এলাকায় নিম্নমানের ইট, পাথরের স্তূপ। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় ভবন নির্মাণের চুক্তির ব্যত্যয় ঘটিয়ে স্টিলের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠের সাটারিং (কংক্রিটের ঢালাই এ ব্যবহৃত অস্থায়ী কাঠামো) ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও আবার খোলা অবস্থায় পরে রয়েছে বাঁশ ও কাঠের সাটারিং।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, কাজের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হবে না কেন? ঢাকা থেকে প্রকল্প পরিচালক গেলে তাদের বড় অংকের টাকা দিতে হয়। প্রকল্প এলাকা ভ্রমণ শেষ করে কুয়াকাটায় ভ্রমণে যান তারা। তাদের থাকা-খাওয়া, ঢাকা যাওয়ার সময় বড় মাছ দিতে হয়। এজন্য ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে টাকা উঠিয়ে নেয়।

প্রকল্প এলাকায় কর্মরত শ্রমিক রফিক মিয়া বলেন, ঢালাই ভালো হয়। ঢালাইতে স্টিলের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠের সাটারিং ব্যবহার করা হয়। ইটের মান অনেক খারাপ গুরা গুরা হয়ে যায়।

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা মেসার্স আনজুম ট্রেডার্সের ম্যানেজার মো. সোহেল শরীফ জাগো নিউজ বলেন, চারটি পাথর, তিনটি বালু, একটি সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই দেয়া হয়। সেন্টারিং এ স্টিল সার্টার, প্লেনসিট, কাঠ ও বাঁশ, পলিথিন ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া গাথুঁনিতে ইট ব্যবহার করা হয়।

Patuakhali

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, আমি গত পরশুদিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে এসেছি। তখন নিম্নমানের কোনো ইট দেখিনি। প্রকল্প এলাকায় ভবন নির্মাণের চুক্তির ব্যত্যয় ঘটিয়ে স্টিলের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠের সাটারিং ব্যবহার করা হয় কেন এমন প্রশ্নের তিনি কোনো উত্তর দেননি।

তিনি আরও বলেন, আমি আগামীকাল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাব।

পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, আমি যখন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছিলাম তখন ভালো মানের নির্মাণ সামগ্রী পেয়েছিলাম।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এমএএস/এমএস