মুক্তিযুদ্ধের শেষ বুলেটে পা হারানো আনোয়ারার খবর নেয় না কেউ
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বোনের কোলে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পা হারানো কিশোরগঞ্জের আনোয়ারা বেগমের দিন কাটছে দুর্বিসহ যন্ত্রণায়। অর্থাভাবে মিলছে না চিকিৎসা। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও কেউ খোঁজ নেয়নি দরিদ্র এ পরিবারটির। জোটেনি সরকারি সহযোগিতা। পায়ে দগদগে ঘা নিয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন এই নারী।
স্বজনদের দাবি, অন্তত উন্নতমানের একটি কৃত্রিম পায়ের জোগান হলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারবেন মুক্তিযুদ্ধের শেষ বুলেটে আহত আনোয়ারা বেগম।
১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর। সারাদেশে যখন উড়ছে স্বাধীন দেশের লাল-সবুজের পতাকা তখন কিশোরগঞ্জ শহর ছিল রাজাকারদের দখলে। স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে চলছিল মুক্তিকামি দামাল ছেলেদের মরণপণ লড়াই। এ দিন দুপুরের দিকে শহরের গাইটাল নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক ইন্নছ আলীর দেড় বছরের শিশু সন্তান আনোয়ারাকে কোলে নিয়ে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়েছিল তার বড় বোন ললিতা। এ সময় একটি গুলি এসে লাগে আনোয়ারার পায়ে। মুহূর্তেই হাঁটুর নিচ থেকে ছিন্ন হয়ে যায় ডান পা। সেদিন প্রাণে বেঁচে গেলেও কেটে ফেলতে হয় তার সেই পা। সেই থেকে দুঃসহ স্মৃতি আর শরীরে যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটছে তার।
আনোয়ারা বেগম জানান, দুইবার তার পা কাটতে হয়েছে। কিন্তু সারক্ষণ ব্যথা থাকেই। সেই শৈশব থেকেই যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি। মিলছে না প্রয়োজনীয় ওষুধ। একটি কৃত্রিম পায়ের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হচ্ছে। স্বাধীনতার এতোটি বছর পরও কেউ খোঁজ নিতে আসেনি।

পঙ্গু জেনেও অসহায় আনোয়ারাকে জীবনসঙ্গী করে নেন তারই মামাতো ভাই আনজু মিয়া। বর্তমানে দুই ছেলে ও চার মেয়ে নিয়ে খেয়ে-না খেয়ে চলছে তাদের সংসার। টাকার অভাবে বন্ধ রয়েছে আনোয়ারার চিকিৎসা।
আঞ্জু মিয়া বলেন, অসহায় জেনেই আমি তাকে বিয়ে করেছি। চেষ্টা করছি তাকে কীভাবে একটু সুখ দেয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, অভাবের সংসার। পরিশ্রম করে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছি। সংসারের খরচ চালিয়েও সাধ্যমত তার চিকিৎসা করাচ্ছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। আনোয়ারার বয়স বেড়েছে। এখন আর কষ্ট সহ্য করতে পারে না। একটি উন্নত মানের পা পেলে জীবনের শেষ বেলায় সে একটু হাঁটতে পারতো। এ জন্য তিনি সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য চান।

স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত কেউ তাদের খোঁজ নিতে আসেনি। জোটেনি সরকারি সহযোগিতা। জীবনের পড়ন্ত বেলায় পঙ্গু মেয়েটির যেন একটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা হয়-এমন দাবি স্বজন ও এলাকাবাসীর।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মনোয়ারা বেগমকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী। তিনি জানান, অচিরেই আনোয়রা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে কীভাবে সহায়তা করা যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরএআর/জেআইএম