ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে প্রেসক্লাবে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৯:৪৮ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২০

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বাসিন্দা প্রবাসী নজরুল ইসলাম ও তাহমিনা বেগমের একমাত্র সন্তান তানভীর ইসলাম তুহিন (২১) নির্মম হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যা মামলার একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী রিভেন্স বাহিনী হত্যার ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে মামলার আসামি ও স্বজনরা নানাভাবে বাদীপক্ষের লোকজনদের মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান তুহিনের মা তাহমিনা বেগম ও মামলার বাদী তুহিনের মামা মো. ফারুক মিয়া। একই সঙ্গে তারা আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন। এ বিচার চাইতে গিয়ে প্রেসক্লাবে কান্নায় ভেঙে পড়েন তুহিনের মা।

প্রসঙ্গত, ৬ মাস পূর্বে স্থানীয় বাইশ রশি স্কুল মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে রিভেন্স ও তার লোকজনের সঙ্গে শত্রুতার সৃষ্টি হয় তুহিনের। ওই ঘটনার তিনদিন পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি মিমাংসা করে দিলেও তাদের মনে রাগ থেকে যায়। সেই জের ধরে তানভীর ইসলাম তুহিনকে ভাঙ্গা উপজেলার আদমপুরে একটি ওরশ অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে কুপিয়ে হত্যা করে বখাটে সন্ত্রাসীরা।

Faridpur-(1)

সংবাদ সম্মেলনে তাহমিনা বেগমের পক্ষে তার বোন তাহেরা বেগম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় নিহত তুহিনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শারমিন বেগম, মামা ও মামলার বাদী মো. ফারুক মিয়াসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, গত ৪ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যার সময় ওরশের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে সন্ত্রাসী রিভেন্সসহ ১০/১৫ জনের একটি দল তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। তুহিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘাড়ে ও বুকে আঘাত করে। স্থানীয়রা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর ৫ ডিসেম্বর তুহিনের মামা ফারুক মিয়া বাদী হয়ে রিভেন্সকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ভাঙ্গা থানা পুলিশের ওসি শফিকুর রহমান বলেন, ঘটনার পরে আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে মামলার ২০ দিনের মাথায় মামলা সিআইডি চলে যাওয়ায় বিষয়টি এখন আর আমাদের হাতে নেয়।

সিআইডিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরজিৎ বিশ্বাস বলেন, ৭ দিন আগে অর্থাৎ জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে মামলার ডকুমেন্ট বুঝে পেয়েছি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য। তিনি বলেন, আসামি যেই হোক সুষ্ঠু তদন্ত করে এ মামলার রহস্য উৎঘাটন করবো এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

বি কে সিকদার সজল/এমএএস/এমকেএইচ