ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নিখোঁজ সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের আর্তনাদ

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২০

পরিবারের মেজো মেয়ে উর্মি আক্তার (৮)। ঢাকার একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে সে। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে তার বাবার সঙ্গে। খুনসুটির ফাঁকে ফাঁকে চুমু এঁকে দেয় বাবার কপালে। গত ছয়দিন ধরে বাবার ভীষণ আদরের এই মেয়েটির দেখা নেই। বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় উর্মি। এরপর থেকে তাকে ফিরে পাওয়ার আশায় আর্তনাদ করছেন বাবা-মা।

উর্মি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের শেকেরপাড়া এলাকার আজাহার আহম্মেদ ও সাবিনা বেগম দম্পতির সন্তান। আদরের সন্তানের জন্য এখন পাগলপ্রায় এই দম্পতি।

মেয়েকে ফিরে পেতে পুরস্কারও ঘোষণা করেছেন বাবা আজাহার আহম্মেদ। যদি কেউ উর্মির সন্ধান দিতে পারেন তাহলে তাকে লাখ টাকা পুরস্কার দেবেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির উঠানে খেলা করার সময় নিখোঁজ হয় উর্মি। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ৬ এপ্রিল রাতেই নবীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে উর্মির চাচা আব্দুল জলিল। কিন্তু নিখোঁজের ছয়দিন পেরুলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

সন্তানের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বাবা আজহার। আর বুকের ধন জীবিত আছে না মারা গেছে সেটিই ভেবে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা সাবিনা। উর্মিকে উদ্ধারে পুলিশের তৎরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তার পরিবার।

বাবা আজাহার আহম্মেদ বলেন, পরিবার নিয়ে আমি ঢাকার উত্তরায় থাকি। দেড় মাস আগে রতনপুর গ্রামের বাড়িতে এসেছি। গত ৬ এপ্রিল দুপুর থেকেই উর্মি নিখোঁজ রয়েছে। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাইনি। থানায় জিডি করেও কোনো হদিস পাচ্ছি না মেয়ের। আমার মেয়েকে খুঁজতে পুলিশেরও কোনো তৎপরতা দেখছি না।

তিনি আরও বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রামের একজনের সঙ্গে আমার বিরোধ ছিল। তবে সেই বিরোধ মিটে গেছে। কে বা কারা আমার মেয়েকে অপহরণ করেছে সেটিও বুঝতে পারছি না। এখন পর্যন্ত কেউ মুক্তিপণ চেয়ে আমাকে ফোনও করেনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মো. মকবুল হোসেন বলেন, উর্মিকে উদ্ধারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা অভিযানও চালিয়েছি। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/এমকেএইচ