ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

করোনার ছুটিতে বাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি | ফেনী | প্রকাশিত: ০৬:১৭ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০২০

ফেনীতে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক স্বামী ওবায়দুল হক টুটুল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ধ্রুব জ্যোতি পালের আদালতে হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিলে আদালত তা ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেন।

ফেনী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, স্ত্রীকে হত্যার পর টুটুল নিজেই পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক তার নিজ বাড়ি ফেনী পৌরসভার উত্তর বারাহীপুর ভূঞাবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। একইসঙ্গে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি দা ও লাইভ সম্প্রচারের মোবাইলটি জব্দ করা হয়।

রাতে এ ঘটনায় গৃহবধূ তাহমিনা আক্তারের বাবা সাহাব উদ্দিন বাদী হয়ে টুটুলকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে টুটুলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। টুটুল সেখানে হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে নিজ হাতে স্ত্রী তাহমিনাকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেন। পরে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ধ্রুব জ্যোতি পাল তা ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেন।

স্বীকারোক্তিতে টুটুল জানান, তার পরিবারের সঙ্গে স্ত্রী তাহমিনা খাপ খাইয়ে চলতে পারত না। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মাঝে ঝগড়া বিবাধ লেগে থাকত। পরিবারিক কলহের বিষয়ে সে তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় বোঝানোর চেষ্টা করলে সে উল্টো আত্মহত্যা করে টুটুলের পরিবারের সবাইকে ফাঁসাবে বলে হুমকি-ধামকি দিতো। পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদে অতিষ্ট হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে টুটুল।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার এসআই সাইফুদ্দীন জানান, দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর ৫ বছর আগে পরিবারের সম্মতি ছাড়াই কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গুনবতি ইউনিয়নের আকদিয়া গ্রামের সাহাব উদ্দিনের মেয়ে তাহমিনা আক্তারকে বিয়ে করেন ফেনী পৌরসভার বারাহীপুর এলাকার ভূঞাবাড়ির ওবায়দুল হক টুটুল। ওই সময় তাহমিনা চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্সের চাকরি করতেন। দেড় বছর আগে তাদের সংসারে একটি মেয়ে সন্তান হলে টুটুল তার স্ত্রীকে নিয়ে নিজবাড়ি ফেনীতে চলে আসেন। কিন্তু কোনোভাবেই তার পরিবারের সঙ্গে তাহমিনা খাপ খাইয়ে চলতে পারছিলেন না। বিভিন্ন ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে সব সময় ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। এসব বিষয়ে টুটুল তার স্ত্রী তাহমিনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে তিনি উল্টো আত্মহত্যা করে টুটুলের পরিবারের সবাইকে ফাঁসাবে বলে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলেন।

টুটুল ঢাকায় একটি ছোট চাকরি করলেও তা দিয়ে সংসারের যাবতীয় খরচে টান থাকত। সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে টুটুল বাড়িতে চলে এলে পারিবারিক কলহ আরও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে সে ফেসবুক লাইভে এসে তার স্ত্রীকে নিজ হাতে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ছেন আদালত।

এদিকে দরিদ্র গৃহবধূ তাহমিনা আক্তারের পক্ষে বিনা পারিশ্রমিকে কৌঁসুলির দায়িত্ব পালনের ঘোষণা দিয়েছেন ফেনীর সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহজাহান সাজু। তিনি বলেন, দরিদ্র ঘরের মেয়ে তাহমিনা আক্তার। আমি তাকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দিয়ে যাব। দেড় বছরের তার একটি সন্তান রয়েছে। তাকে নানার বাড়িতে দেয়ার জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। কারণ শিশুটি এখানে নিরাপদ নয়।

এর আগে তিনি ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় বিনা পারিশ্রমিকে বাদী পক্ষের প্রধান কৌঁসুলির দায়িত্ব পালন করে সুনাম অর্জন করেন।

রাশেদুল হাসান/এফএ/পিআর