ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

২৫ লাখ গাছের আম নিয়ে হতাশায় ভুগছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা

জেলা প্রতিনিধি | চাঁপাইনবাবগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৬:৫৯ পিএম, ১০ মে ২০২০

করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর আম নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। বাগানগুলোতে এখন মাঝারি সাইজের আমের গুটিতে ভরপুর।

করোনার প্রভাবে বাজারের পরিস্থিতি ভালো থাকবে কিনা তা নিয়ে হতাশা রয়েছে। আম সঠিকভাবে বাজারজাত করতে না পারলে এ বছর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় আম বাগানের পরিমাণ ৩৩ হাজার ৩৫ হেক্টর। গত বছর ছিল ৩১ হাজার ৮২০ হেক্টর এবং গাছের সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩০টি।

বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাগানগুলোতে নানাজাতের আমের গুটি অনেকটাই বড় হয়েছে। জ্যৈষ্ঠ মাসে বাজারে উঠতে শুরু করবে আম।

jagonews24

জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল হওয়ায় এই আমকে ঘিরেই এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু করোনার কারণে এ অঞ্চলের মানুষের মুখে যেন হাসি মলিন হয়ে গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উপর রজারামপুরের আম বাগান মালিক মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই কয়েকবার বাগান হাতবদল হয়। কিন্তু এবার করোনার প্রভাবে বাগানের ক্রেতা নেই। আম বাজারজাত না করতে পারার আশঙ্কায় বাগান পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন অনেক চাষি। আমগাছে পর্যাপ্ত গুটি এসেছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর আমের ফলন ভালোই হবে। কিন্তু করোনাভাইরাসের জন্য আমের বাজার নিয়ে আমচাষিদের মাঝে চরম হতাশা নেমে এসেছে।

শহরের মসজিদ পাড়ার আম ব্যবসায়ী বাহরাম আলী জানান, চলতি বছর পর্যাপ্ত আম হলেও আমের বাজার নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আম মৌসুমজুড়ে লেনদেন হয় কয়েক হাজার কোটি টাকার। পরিবহন ব্যবস্থা ও আম সঠিকভাবে বাজারজাত করতে না পারলে পুঁজি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে যাবে জেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

দেশের সর্ববৃহৎ আমবাজার কানসাটের আম আড়ৎদার সমিতির সভাপতি কাজী এমদাদ জাগো নিউজকে বলেন, আম বাজারজাতকরণে এবার প্রস্তুতি ভালোই ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে আমের বাজারজাতকরণ ও দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এখানকার আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। মৌসুমের এই সময়টাতে কানসাট আমবাজার ও আড়ৎগুলোতে আমবাগান কেনা-বেচাকে ঘিরে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ করা গেলেও এবার নেই কোনো কর্ম-ব্যস্ততা। তাই আমের বাজারজাতকরণে আগাম পরিকল্পনা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন আড়ৎদাররা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ ম্যাংগো প্রডিউসর এর সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ জাগো নিউজকে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতি বছর ১২ থেকে ১৫শ কোটি টাকার আম কেনা বেচা হয়। করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। অর্থনৈতিক মন্দাভাবের কারণে এ বছর আমের নায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

jagonews24

জেলার আম ব্যবসায়ীরা টানা কয়েক বছর থেকে আমের প্রকৃত দাম না পেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বছর যদি সঠিকভাবে আম বাজারজাত করতে না পারে তবে মূলধন হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে আম চাষ থেকে সরে আসবেন জেলার আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

এ জেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষ আমের সাথে জড়িত। তাই সরকার কৃষিখাতে যেভাবে প্রণোদনা দিচ্ছে সেইভাবে আম ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিয়ে এ সম্পদকে রক্ষা করার দাবি জানান তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, সবকিছু মিলিয়ে এবার আমের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্নপ্রান্তে নির্বিঘ্নে যেন আম বাজারজাত করতে পারে এ ব্যাপারে জেলার আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছে।

মোহাঃ আব্দুল্লাহ/এমএএস/এমকেএইচ