ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দেশের সর্বকনিষ্ঠ সা‌বেক এমপি সাইফুল ইসলাম আর নেই

জেলা প্রতিনিধি | নাটোর | প্রকাশিত: ০৮:২৫ পিএম, ১০ মে ২০২০

নাটোরে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক এমপি এবং প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আর নেই। আজ বিকেল ৩টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মরহুমের জানাজা তারাবিহ নামাজ শেষে রাত ১০টায় নলডাঙ্গা উপজেলার পটুয়াপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া গাড়িখানা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হবে।

প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। ১৯৬০ সালে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৬৩ সালে রাজশাহী কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে ছিলেন বৃহত্তর রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ছয় দফা আন্দোলনের সময়েও তিনি ছিলেন রাজনীতির মাঠে। ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জনমত সংগঠনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পুরোটাই যুদ্ধের মাঠে কাটিয়েছেন এই নেতা।

১৯৭৩ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত সংসদের সর্বকনিষ্ঠ এমপি নির্বাচিত হন। জাতীয় চার নেতার এক নেতা এইচএম কামরুজ্জামান হেনার দক্ষিণহস্ত হিসেবে পরিচিত সাইফুল ইসলাম ছিলেন বঙ্গবন্ধু ঘনিষ্ঠ সহচর। ১৯৭৫ সালের কালরাতের পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

পরে খন্দকার মোশতাক, জেনারেল জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ এবং খালেদা জিয়ার শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। নাটোরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যারা নিবেদিতপ্রাণ বলে পরিচিত তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম অন্যতম। সব প্রতিকূলতার মধ্যেও আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়েননি তিনি। তার চেষ্টায় গড়ে উঠেছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

নাটোরের পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে যাদের সুনাম রয়েছে তিনি তাদের অন্যতম একজন। গত ২৩ জানুয়ারি স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি শেরেবাংলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এরপর একটু সুস্থ হলে তাকে নাটোরে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

রেজাউল করিম রেজা/এফএ/এমকেএইচ