ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পটুয়াখালীতে গুমোট আবহাওয়া

জেলা প্রতিনিধি | পটুয়াখালী | প্রকাশিত: ০৬:০০ পিএম, ১৯ মে ২০২০

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে গুমোট পরিবেশ, ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৮ মে) সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। তবে এখনও বৃষ্টি হয়নি। গুমোট আবহাওয়া ঘূর্ণিঝড়কে আরও শক্তিশালী করে এগিয়ে নিয়ে আসছে— এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, আবহাওয়া অফিস পায়রা সমুদ্র বন্দর ও পটুয়াখালী জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে। শহরের মাছপট্টি এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, সকাল থেকে নদীর পানি সামান্য বাড়ছে। বর্তমানে নদীর পানি নীরব-নিস্তব্ধ রয়েছে। কুয়াকাটা এলাকার বাসিন্দা রফিক মিয়া মুঠোফোনে জানান, সমুদ্রের পানি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের মতো ঢেউ আছে।

জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী সংবাদকর্মীদের জানান, প্রত্যেককে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্য আদান-প্রদান করতে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে। যার টেলিফোন নম্বর ০৪৪১-৬৫০১০ এবং মোবাইল নম্বর ০১৭১০২৯৮৭১৮। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ২০ লাখ নগদ টাকা, নয় লাখ টাকার শিশুখাদ্য, ৪৫০ টন চাল ও পর্যাপ্ত শুকনা খাবার মজুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেলার দুর্গত মানুষদের জন্য ৭৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া জেলার সব বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সতর্কতার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বাজায় রেখে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে লোকজনকে অবস্থানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিকেলের মধ্যে চরাঞ্চলের মানুষদের সরিয়ে আনা হবে।

posr

মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ্ জানান, ঘূর্ণিঝড়ের সময় জেলেরা এমনিতেই গভীর সমুদ্রে কম যায়। যারা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য গিয়েছিল তারা ট্রলার নিয়ে উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

তিনি আরও বলেন, ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন গভীর সমুদ্রে যাওয়া নিষেধ। যার জন্য গত ৫ মে জেলা প্রশাসক সকলকে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন। ১৯ মে রাত ১২টার মধ্যে সবাইকে উপকূলে ফেরত আসতে হবে। যার কারণে আমাদের কোনো জেলে এখন গভীর সমুদ্রে নেই। উপকূলের কাছাকাছি ২০০ জেলে অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি।

জেলা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক কাজী কেরামত হোসেন বলেন, সুপার সাইক্লোন আম্ফানের প্রভাবে পায়রা সমুদ্র বন্দর ও পটুয়াখালী জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। একদিকে গুমোট আবহাওয়া অন্যদিকে বৃষ্টি না হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়কে আরও শক্তিশালী করে এগিয়ে নিয়ে আসছে। আগে থেকে বৃষ্টি হলে ঝড়ের শক্তি কমতো। কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না, ফলে ঘূর্ণিঝড় মূল শক্তি নিয়ে আগামীকাল সকাল থেকে তাণ্ডব শুরু করতে পারে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকতে পারে— এমনটি জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

তিনি আরও বলেন, পটুয়াখালীতে আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

পায়রা বন্দরের সহকারী পরিচালক (নিরাপত্তা) সোহেল মীর বলেন, বন্দরে কোনো জাহাজ নেই। যে জাহাজ ছিল তা নিরাপদ স্থানে (বরিশাল নদী বন্দরে) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া গভীর বঙ্গোপসাগরে যেসব বিদেশি জাহাজ ছিল তাও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতিতে জনগণের জানমাল রক্ষায় জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্কাউট, ফায়ার সার্ভিস, রেডক্রিসেন্ট ও বিদ্যুৎ বিভাগের সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা সূত্রে জানা গেছে।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এমএআর/পিআর