ভিডিও EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

একদিকে নিষেধাজ্ঞা অন্যদিকে করোনা, কোথায় যাবেন জেলেরা

জেলা প্রতিনিধি | ভোলা | প্রকাশিত: ০২:৩১ পিএম, ১৪ জুন ২০২০

বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হলেও এখনও অনেক জেলে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চাল না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছ শিকার বন্ধ অন্যদিকে করোনার কারণে বিকল্প কাজও করতে পারছেন না তারা। যার কারণে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে অর্ধাহার ও অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন ভোলার জেলেরা।

সরেজমিনে জেলেদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে সাগরে সব ধরনের সামদ্রিক মাছের শিকারের নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও ভোলায় তা বাস্থবায়ন হয় ২০১৯ সাল থেকে। এ বছর নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ২০ মে থেকে। আর চলবে ২৩ জুলাই পর্যন্ত। এ সময় বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এছাড়াও সব ধরনের সামুদ্রিক মাছ মজুদ, পরিবহন ও বাজারজাতেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য ভোলার মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে একের পর এক মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞায় দিশেহারা জেলেরা। এছাড়াও একদিকে নিষেধাজ্ঞা অন্যদিকে করোনার কারণে অন্য কাজ না করতে পেরেও বিপাকে রয়েছেন জেলেরা। দ্রুত সরকারি সহযোগিতার দাবি জেলেদের।

চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ ঘাট এলাকার জেলে মুসলে উদ্দিন মাঝি ও মো. জামাল উদ্দিন মাঝি বলেন, গত ৩০ এপ্রিল নদীতে মাছ শিকার বন্ধের দুই মাসের অভিযান শেষ হয়েছে। ওই সময় মাছ বেচা-বিক্রি বন্ধ ছিল। তাই সাগরে মাছ শিকার করে বিক্রি করতে না পারায় মাছ শিকার করতে যায়নি। কিন্তু ২০ মে থেকে আবার সাগরে মাছ শিকার বন্ধ হয়েছে। এতে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

তারা আরও বলেন, আমরা সাগরে মাছ শিকার করে জীবনযাপন করি। এখন মাছ ধরা বন্ধ ও করোনার কারণে অণ্য কাজও করতে পারছি না। তাই সরকার যদি আমাদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা করে তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে।

মনপুরা উপজেলার চর নিজাম এলাকার জেলে সামছুদ্দিন ও আলী মিয়া জানান, গত বছর অভিযানের সময় আমরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে সাগরে মাছ শিকার করতে যাইনি। কিন্তু সরকার আমাদের জন্য যে চাল বরাদ্দ করেছে সেটাও আমরা পাইনি।

তারা আরো বলেন, আমরা যারা প্রকৃত জেলে তাদের অনেকের জেলে কার্ড নেই। আবার যাদের জেলে কার্ড আছে তারাও অনেকেই চাল পাননা।

Bhola-1

একই এলাকার জেলে মো. মিজান উদ্দিন, রিয়াজ মাঝি জানান, সকল কষ্ট শিকার করে সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে সাগরে মাছ শিকার করতে যাচ্ছেন না। অথচ ভারতীয় জেলেরা বড় ট্রলার নিয়ে নিষেধাজ্ঞার সময় সাগরে মাছ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। তাই সাগরে কঠোর অভিযান চালিয়ে ভারতীয় জেলেদের মাছ শিকার বন্ধ করার দাবি তাদের।

দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর এলাকার ট্রলার মালিক সিরাজ মাঝি ও আড়ৎদার মো. জাকির জানান, সরকারের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে মৎস্য ব্যবসা নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। জেলেরা দাদনের টাকা নিচ্ছে। আর অভিযান আসলেই পালিয়ে যাচ্ছেন জেলেরা। যার কারণে প্রতি বছর গুনতে হচ্ছে লোকসান।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আজাহারুল ইসলাম জানান, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ নিয়ে এ বছর অভিযান কঠোরভাবে চালানো হচ্ছে। এসময় দেশি-বিদেশি কোনো ট্রলার সাগরে যাতে মাছ শিকার করতে না পারে সেজন্য টহল অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, অভিযানের সময় জেলেরা যাতে কষ্টে জীবনযাপন না করে সেজন্য প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে জেলায় ১ লাখ ৭ হাজার ৭৭ জন জেলের জন্য এ বছর সরকারিভাবে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় বিরতণ শুরু হয়েছে। আর বাকি এলাকায় দ্রুত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিরতণ শুরু হবে।

জুয়েল সাহা বিকাশ/এফএ/পিআর