মির্জাপুরে এখনও সরকারি ২৫০০ টাকা পাননি ৫ হাজার তালিকাভুক্ত
ফাইল ছবি
তালিকায় নাম থাকার পরও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় চার হাজার ৮০০ জনের হাতে হতদরিদ্র মানবিক সহায়তার নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা পৌঁছায়নি। টাকা না পাওয়ায় হতাশার মধ্যে রয়েছেন এসব পরিবারের লোকজন।
ঈদুল ফিতরের আগে (১৮ মের মধ্যে) মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, রকেট, নগদ ও শিওরক্যাশের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত প্রতিটি পরিবারের নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তালিকায় নাম থাকার পরও এ উপজেলায় ৪ হাজার ৮০০ জনের হাতে টাকা পৌঁছায়নি। তালিকাভুক্ত মোট ৭ হাজার ৩৮৮ জনের মধ্যে টাকা পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৫৮২ জন। আবার তালিকায় অনেকের নামের হদিস নেই বলেও জানা গেছে।
জানা গেছে, করোনা দুর্যোগে কর্মহীন ৫০ লাখ পরিবারকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মির্জাপুর উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা ৭ হাজার ৩৮৮ জনের নামের তালিকা চূড়ান্ত করে। তালিকায় রয়েছেন, দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালক, হকার, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, পোলট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাক-পিকআপসহ পরিবহন শ্রমিক ও রেস্তোরাঁর কর্মচারীসহ নিম্ন আয়ের নানা পেশার মানুষ।
মির্জাপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সুদেব পাল, স্বপন তাম্বলী, হারুন অর রশিদ, শিরিন আক্তার, তানজিলা আক্তার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কান্ঠালিয়া গ্রামের ভবলশীল ও বিমল দাস বলেন, তালিকায় নাম থাকা অনেকে টাকা পেয়েছেন, আবার অনেকে পাননি। আমরা এখনও পাইনি। কাউন্সিলর বলেছেন তথ্য জটিলতার কারণে টাকা আসতে দেরি হচ্ছে।
মির্জাপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিরুল কাদের লাবন বলেন, তার ওয়ার্ডের পুষ্টকামুরী ও বাইমহাটী গ্রামের ৫৯ জনের নামের তালিকা দেয়া হয়েছিল। এরমধ্যে ২১ জন টাকা পেয়েছেন। বাকিদের তথ্য সঠিক না থাকায় পুণরায় যাচাই-বাছাই করে পাঠানো হয়েছে।
৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জানান, তার ওয়ার্ডে ৩৪ জন টাকা পায়নি।
মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া জানান, তার ইউপিতে ৪৯০ জনের মধ্যে ২৬৬ জন টাকা পায়নি।
ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ মিয়া জানান, তার ইউপিতে ৩৭৬ জনের মধ্যে ২২৫ জন টাকা পায়নি।
এছাড়া আজগানা ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম শিকদার বলেন, তার ইউনিয়েনে ৫৯৫ জনের মধ্যে ২৪৯ জন টাকা পেয়েছেন। বাকিদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরের সঙ্গে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের মিল নেই। আবার তালিকায় নাম থাকলেও মোবইল নম্বর অন্যের। এ ধরনের বেশ কিছু তথ্যের গড়মিল থাকায় সুবিধাভোগীদের হাতে টাকা পৌঁছায়নি। তথ্য যাচাই-বাছাই ও সংশোধনের মাধ্যমে সঠিক করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
মির্জাপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র চন্দনা দে জানান, পৌরসভা এলাকায় ৫৩৭ জনের মধ্যে ১০১ জন টাকা পেয়েছেন। ৩১৩ জনের নামের তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ১২৩ জনের নামের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল মালেক বলেন, তালিকায় নাম থাকার পরও তথ্য গড়মিল থাকায় সুবিধাভোগীদের হাতে যথাসময়ে টাকা পৌঁছায়নি। তবে যারা টাকা পাননি, তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই ও সংশোধন করে সঠিক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। অনেকেরই ব্যাংকে ১০ টাকায় হিসাব খুলে দেয়া হয়েছে। এই তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর পর সুবিধাভোগীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা পাবেন বলে জানান।
এস এম এরশাদ/এফএ/পিআর