গাফিলতিতে মৃত্যু জেনেও মামলা নিলো না পুলিশ
রাজশাহী নগরীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ভবন মালিকের গাফিলতিতেই হয়েছে। সুরক্ষা ছাড়াই বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রধান লাইন ঘেঁষে নির্মাণ হয় ভবনটি। নগরীর উত্তর গুড়িপাড়া মহল্লায় নির্মাণাধীণ তিনতলা ওই ভবনে ব্যালকুনি-জানালার গ্রিল তুলতে গিয়ে সোমবার দুপুরের দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট
হয়ে মারা যায় দু’জন।
তারা হলেন- নগরীর হড়গ্রাম পশ্চিমপাড়া মহল্লার মনসুর আলীর ছেলে মোহন আলী (৩০) ও একই এলাকার আরজেদ আলীর ছেলে, কাশিয়ায়ায় ছোটপুকুরিয়া আহমেদ আলী (২৫)।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক আব্বাস। তিনি স্বীকার, নির্মাণাধীন ভবনটিতে কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। সুরক্ষা ছাড়াই নির্মাণকাজ শেষ করেন ভবন মালিক তহুর আলী। শেষের দিকে গ্রিল তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভবন মালিকের অবহেলায় এই মৃত্যু হয়েছে। পরে পুলিশকে ম্যানেজ করে মামলা দায়ের না করেই মরদেহ তড়িঘড়ি করে দাফন করিয়েছেন। ময়নাতদন্ত পর্যন্ত হয়নি। মোটা অর্থের বিনিময়ে থানা পুলিশ ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভবন মালিক তহুর আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালিয়াঘাটা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশকে ম্যানেজ করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় তার কোনো দায় নেই। এটি নিছকই দুর্ঘটনা। তবুও পুলিশ, শ্রমিক নেতা ও নিহতের পরিবারকে নিয়ে ওই রাতেই ঘটনা মিটমাট হয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুখ খুলতে রাজি হননি তদন্তকারী কর্মকর্তা এআই আব্বাস। বিষয়টি কেবল ওসিই জানেন বলে দাবি করেন তিনি।
জানতে চাইলে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি মনসুর আলী আরিফ বলেন, নিহতদের পরিবারের কোনো অভিযোগ ছিল না। তাছাড়া মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পেতে আবেদন করেছিলেন স্বজনরা। পরে পুলিশ আইনত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ নিয়ে ম্যানেজ হবার অভিযোগ অস্বীকার করেন ওসি।
এ বিষয়ে নগর পুলিশের কাশিয়াডাঙ্গা জোনের ডিসি আরেফিন জুয়েল জানান, দুর্ঘটনায় সাধারণত অপমৃত্যু মামলা হয়। এক্ষেত্রে সেটিই হয়েছে। তবে
অবহেলায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে হত্যা মামলাও হতে পারে। এ নিয়ে থানা পুলিশ ম্যানেজে হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন ডিসি।
এমআরএম